विवेचन सारांश
নিঃস্বার্থ ভক্তির দ্বারা ভগবান প্রাপ্তি
পরম পূজ্য স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি জী মহারাজের সূক্ষ্ম সান্নিধ্যে, শ্রীমদ্ভগবদগীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের প্রথমার্ধ বিবেচন সত্রের শুরু প্রার্থনা, গান এবং ভক্তিমূলক গানের মাধ্যমে হয়। শ্রীভগবান বলেছেন যে গীতা পাঠ করে সে আমাকে প্রাপ্ত হয়। আমরা জানি না যে এ আমাদের কোন জন্মের কোন পুণ্যকর্ম, নাকি কোন সাধু বা মহাত্মার কৃপা আমাদের উপর পড়েছে? আমাদের এমন সৌভাগ্য যে আমরা ভগবদ্গীতা শিখতে এবং জানতে আগ্রহী হয়েছি। আমরা জানতে চাই যে গীতা কি? গীতাই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যার জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়। ভগবদ্গীতা একাদশীতে গীতা জয়ন্তীর রূপে প্রকাশিত হয়েছিল, এটি মহাভারতের একটি অংশ এবং ভাগবত কথা মহাপুরাণ এর থেকে ভিন্ন । গীতাজীর আঠারো শতাধিক প্রামাণিক ভাষ্য রয়েছে, বাহান্ন শত বছর ধরে পণ্ডিত ও মহাপুরুষগণ, পৃথিবীর সকল প্রকার মানুষের এবং তাদের সমস্যার সমাধান এই গীতার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন। মহাত্মা গান্ধী এক জায়গায় লিখেছেন, আমার জীবনে যখন অন্ধকার নেমে আসে, আমি মা গীতার আশ্রয়ে চলে যাই। এর মধ্যে সব উত্তর পাওয়া যায়। ইহকাল ও পরকাল থেকে পরিত্রাণ পেয়ে কীভাবে আমরা মোক্ষলাভ করতে পারি, ভগবদ্গীতা তার মার্গদর্শন করে।
মহাভারতে গল্পে লেখা আছে - ধৃতরাষ্ট্রের নির্দেশে পাণ্ডবদের সাথে ছল করে তাদের তেরো বছরের জন্য বনবাসে পাঠানো হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে যুধিষ্ঠির কিছুই বলেননি এবং ধৃতরাষ্ট্রের আদেশ মেনে বারো বছর বনবাস এবং এক বছরের অজ্ঞাতবাসে চলে যান। তেরো বছর পর যখন পাণ্ডবরা বনবাস থেকে ফিরে আসেন, তখন দুর্যোধন সুচের ডগা সমান জমি দিতে অস্বীকার করেন। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শান্তির দূত হয়ে হস্তিনাপুরে যান, কৃষ্ণ সেখানে পৌঁছলে পাপী দুর্যোধন ও শকুনি বলেন, এই গোয়ালাকে ধরো, যে পাণ্ডবদের জন্য কথা বলতে এসেছে। যখন এটা নিশ্চিত হলো যে যুদ্ধ হবেই, তখনও হস্তিনাপুরের বৈঠকে ভগবান কৃষ্ণ পাপী ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, পাঁচটি গ্রাম পাঁচ পাণ্ডবের জন্য দেওয়া হোক কিন্তু তারা তাতেও রাজি হয়নি। যুধিষ্ঠির সমগ্র বিশ্বের সম্রাট উপাধি তার ভাইদের বীরত্বের কারণে প্রাপ্ত করেছিলেন। যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুন যুদ্ধ না করার পক্ষপাতী ছিলেন এবং নকুল নিরপেক্ষ ছিলেন, একমাত্র সহদেব বলেছিলেন যে যুদ্ধ করাই উচিত। এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়, অতঃপর কুন্তী মাতা একজন দূত পাঠিয়ে যুধিষ্ঠিরের কাছে বার্তা পাঠালেন যে, আপনার প্রজাদের প্রতিও আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে কারণ আপনি একজন ক্ষত্রিয়, একজন রাজা, যে প্রজাগণ দুর্যোধনের অত্যাচার সহ্য করছে, তাদের রক্ষা করা আপনার কর্তব্য। যে দিনের জন্য ক্ষত্রাণি নিজের পুত্রকে জন্ম দেয়, সেই সময় এখন এসে গেছে। যুধিষ্ঠির ধার্মিক ও ধর্মরাজ ছিলেন, তাই মায়ের আদেশ মেনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। যুদ্ধ করার জন্য কুরুক্ষেত্রের ভূমি নির্বাচন করার জন্য কয়েক মাস সময় লেগেছিলো, প্রথমে সেখানের ভৌগোলিক অবস্থা, সেই স্থানের মাটি সমতল কি না এবং প্রচুর সংখ্যক সৈন্যের থাকা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, এই সব বিচার এবং আলোচনা করা হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রে মহারাজ কুরু ও বহু ঋষি তপস্যা করেছিলেন এবং এই তপস্যার প্রভাবেই এই স্থানে যুদ্ধে নিহত সৈন্য ও যোদ্ধাগণ কর্মনির্বিশেষে স্বর্গলাভ করবে, এই ভাবনা থেকেই যুদ্ধের জন্য এই তপো ভূমি বেছে নেওয়া হয়েছিল। জমি সমতল করা হলো, নদীর উপর সেতু তৈরি করা হলো, বহুসংখ্যক ভাণ্ডার তৈরি করা হলো, ঘোড়াশাল, গজশাল তৈরি করতে এবং সব ধরণের ব্যবস্থা করতে বেশ কিছু মাস লেগে গিয়েছিল। মাসের পর মাস দূর-দূরান্ত থেকে সৈন্যরা যুদ্ধস্থলে একত্র হতে থাকে। সাতটি অক্ষৌহিণী সেনা পাণ্ডবদের পক্ষে এবং এগারোটি অক্ষৌহিণী কৌরবদের পক্ষে ছিলো। যেদিন পাণ্ডবদের বনবাসে পাঠানো হয়েছিল, সেদিনই দুর্যোধন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি পাণ্ডবদের রাজ্য ফিরিয়ে দেবেন না এবং পাণ্ডবদের সাথে যুদ্ধ হবে ধরেই নিয়েছিলেন। সেই কারণেই দুর্যোধন সে সময়ে ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজাদের এক বা অন্য অজুহাতে উপহার দিয়ে তাদের থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে যুদ্ধে সাহায্য করার জন্য তারা নিজের সৈন্যবাহিনী পাঠাবেন। দুর্যোধন এইজন্যে তা করেছিলো কারণ তার মনে হয়েছিল তার দ্বারা উপকৃত হলে, যুদ্ধের সময় রাজাগণ তার পক্ষে যোগ দেবেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা ছিল এবং যুধিষ্ঠিরের মামা রাজা শল্যের একটি অক্ষৌহিনী সেনা ছিল।
যুদ্ধের আগের একটা বৃত্তান্ত, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গভীর নিদ্রায় ছিলেন, তখন সেখানে লোভী ও পাপী দুর্যোধন শ্রীকৃষ্ণের কাছে সৈন্যদলের সাহায্য প্রার্থনার জন্য পৌঁছলেন এবং কৃষ্ণকে নিদ্রারত দেখে তাঁর মাথার দিকে বসলেন, সেইসময় অর্জুনও পৌঁছে গেলেন এবং তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পায়ের কাছে গিয়ে বসলেন। ভগবান যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, তিনি প্রথমে অর্জুনকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি কেন এসেছেন? তখন দুর্যোধন বলে উঠলেন, আমি আগে এসেছি, আপনি আমার সঙ্গে প্রথমে কথা বলুন। ভগবান কৃষ্ণ বললেন, ঘুম থেকে উঠে আমি প্রথম অর্জুনকে দেখেছি, তাই আগে তার সঙ্গে কথা বলব, এতে দুর্যোধন বিরক্ত হলেন। তখন ভগবান বললেন, তোমরা উভয়েই আমার আত্মীয়, সেই কারণে আমি তোমাদের কারোর পক্ষ থেকেই যুদ্ধ করব না। একদিকে আমি নিরস্ত্র একা থাকব আর অন্যদিকে সংসারের সুসজ্জিত ও পরাক্রমশালী অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা। দুর্যোধন মনে মনে ভাবলেন, এই নিরস্ত্র কৃষ্ণকে নিয়ে আমি কী করব? তিঁনি তো যুদ্ধও করবেন না। তখনই অর্জুন শ্রী কৃষ্ণকে বললেন, ভগবান ! আপনি এ কি বলছেন, আপনি নিরস্ত্র থাকুন, যুদ্ধ করুন বা না করুন, আমি আপনার সাথেই থাকব। আপনি আমার সাথে থাকলে আমি সবার সাথে একাই লড়তে পারবো। আপনি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন। আমি শুধু আপনাকেই চাই। এতে দুর্যোধন মনে মনে প্রসন্ন হয়ে ভগবানকে বললেন, আমিও আপনাকেই চেয়েছিলাম, কিন্তু অর্জুন তো আমার অনুজ, সে যখন আপনাকে অনুরোধ করেছে, তখন আপনি তার সঙ্গে যান। দুর্যোধন খুব খুশি হয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন এবং ভাবতে লাগলেন যে যিনি সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা তিনিই যুদ্ধ করবেন না এবং আমিও এত বিশাল ও পরাক্রমী সেনাবাহিনী পেয়েছি। শল্য ছিলেন যুধিষ্ঠিরের মাতুল, কিন্তু দুর্যোধন তার আতিথেয়তা করেন। তার জন্য এবং তার সেনাবাহিনীর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করেছিলেন। দুর্যোধন বিভিন্ন স্থানে শিবির করেছিল, যেখানে ভোজনালয়, বিনোদনের সুব্যবস্থা ছিল। শল্যের মনে হল এই সবই যুধিষ্ঠির করেছেন। শল্য যখন সেই আতিথেয়তা উপভোগ করে কুরুক্ষেত্রে পৌঁছতে চলেছেন, তখন কর্ণ ও দুর্যোধন তাদের শিবিরে পৌঁছে গেলেন, শল্য তাদের দেখে রেগে গেলেন, তখন তারা দুজনেই শল্যকে বলেন, আপনি আমাদের মামা। আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করতে এসেছি। শল্য অবাক হয়ে বলল, এই সব আয়োজন কি তোমার? দুর্যোধন বললেন, যুধিষ্ঠিরের মতো দরিদ্রের কাছে ভোজনেরও কোনো ব্যবস্থা নেই, তাহলে সে কীভাবে আপনার এই বিশাল অক্ষোহিনী সেনাবাহিনীর জন্য সব ব্যবস্থা করবে? আপনি আমারও মাতুল, আমি কীভাবে আপনার অবহেলা করব? মাতুল শল্য যুধিষ্ঠিরের নিকট একটি পত্র লিখে জানালেন যে আমি ভ্রমবশতঃ পথে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছি এই ভেবে যে সমস্ত শিবির আপনার দ্বারা স্থাপন করা হয়েছিল। এই সমস্ত প্রতারণা দুর্যোধন করেছে। এখন আমি তার আতিথেয়তা গ্রহণ করেছি, তাই আমাকে তার পক্ষে থেকেই যুদ্ধ করতে হবে এবং আমি যদি তোমার পক্ষে থেকে যুদ্ধ করি তবে এটি অধর্ম হবে। পত্রের উত্তরে যুধিষ্ঠির লিখলেন, ধর্মের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে এটাই মানতে হবে যে, আপনি যদি দুর্যোধনের আতিথেয়তা গ্রহণ করে থাকেন, তবে আপনাকে তার পক্ষ থেকেই যুদ্ধ করা উচিত। এভাবে সাতটি অক্ষৌহিণী সেনা পাণ্ডবদের পক্ষে এবং এগারোটি অক্ষৌহিণী কৌরবদের পক্ষে ছিলো। এর পর যুদ্ধের দিনক্ষণ এবং নিয়ম নিশ্চিত করা হল। ভগবান ও অর্জুন দিব্যা রথে বসে যুদ্ধক্ষেত্রে এলেন এবং উভয় বাহিনী মুখোমুখি হল, তখন অর্জুন শ্রী কৃষ্ণকে বলেন যে ভগবান আমার রথ যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখান থেকে নিয়ে যান, আমি উভয় পক্ষের সেনাবাহিনীকে দেখতে চাই, তখন ভগবান কৃষ্ণ ভীষ্ম পিতামহ ও দ্রোণাচার্যের সামনে রথ নিয়ে গেলেন, তখনই অর্জুন মোহগ্রস্ত হয়ে বললেন যে, এরা দুজন আমার গুরু, এঁদের সঙ্গে আমি কী করে যুদ্ধ করব ? ভীষ্ম পিতামহ আমাকে এত ভালোবাসেন, আমি কিভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারি ? অর্জুন মোহগ্রস্ত হয়ে বলেন, আমি যুদ্ধ করব না এবং তিনি অস্ত্র ত্যাগ করে বসে পড়লেন । অতঃপর ভগবান উপদেশ দিলেন এবং তিনি অর্জুনকে নিমিত্ত বানিয়ে আমাদের সকলকে এই উপদেশ দিয়েছেন, যা পৃথিবীর যে কোন ক্ষেত্রে, যে কোনো সংগ্রামে বিজয়ী হওয়ার, সুখময় জীবনের সূত্র। ভগবান কৃষ্ণ এবং অর্জুনের এই কথোপকথন চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল এবং এটি যুদ্ধের পূর্ববর্তী। সময়ে ঘটিত হয়েছিল। সঞ্জয় যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর দশ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, যখন ভীষ্ম পিতামহ শরসজ্জায় শায়িত হলেন, তখন সঞ্জয় এই সংবাদ দিতে হস্তিনাপুরে যান, তখন ধৃতরাষ্ট্র তাঁকে বললেন, আমাকে যুদ্ধের প্রারম্ভ থেকে বিস্তারিত ভাবে সব বলুন। তখন সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্ত দৃষ্টান্ত শুনিয়েছিলেন।
এই শ্লোক দিয়ে ভগবদ্গীতা শুরু হয়েছিল, বেদব্যাস এই আঠারোটি অধ্যায়ের বিষয়ের কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে সাতশটি শ্লোক ছিল। গীতা শেখার জন্য কি কি প্রয়োজনীয়? গীতা শিখতে হলে মনের মলিনতা দূর করা খুবই প্রয়োজন। মনকে শুদ্ধ করা দরকার। এর জন্য একটি গল্প বলা হয়েছে- নারায়ণ স্বামী নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন, তার এক ভালো বন্ধু ছিলেন, তার নাম শ্রমণ জ্ঞানমার্গী। সেই বন্ধু নারায়ণ স্বামীকে খুব সম্মান করতেন। একদিন শ্রমণের মনে চিন্তা এলো, আমি আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু নারায়ণের কাছ থেকে ভক্তির শিক্ষা নিয়ে নিতে পারি। এই ভেবে তিনি নারায়ণজীর কাছে গিয়ে বললেন, আমি শিষ্যরূপে আপনার কাছে এসেছি, আমাকে ভক্তির উপদেশ দিন। নারায়ণ জী তাই শুনে বন্ধুকে বললেন, হাত মুখ ধুয়ে এস, আমি তোমাকে জল এনে দিচ্ছি। শ্রমণ যখন হাত ধুয়ে এসে বসলেন তখন নারায়ণ জী তাকে একটি পাত্রে জল এনে দিলেন। যেই তিনি জল খেতে শুরু করলেন, তখন গুরু বললেন, বেশি জল খেয়ো না, আমি শরবত নিয়ে আসছি। এই বলে নারায়ণ স্বামী একটি পাত্রে শরবত আনলেন, কিন্তু তা পান করার জন্য কোন পাত্র আনলেন না। তখন শ্রমণের মনে প্রশ্ন এলো যে পাত্রে তো জল ভরা রয়েছে, তাহলে তার গুরু এতে শরবত কি করে ঢালবেন? নারায়ণ স্বামী সেই পাত্রে শরবত ঢালতে শুরু করলেন, তখন শ্রমণ দেখলেন পাত্রটি ভরাট হতে চলেছে এবং জল ও শরবতের মিশ্রণ প্রায় পড়ে যাচ্ছে। তাই দেখে শ্রমণ তার গুরুজীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন এই পাত্রে শরবত ঢালছেন? প্রথমত যে পাত্রে জল রয়েছে, সেই পাত্রে শরবত কেন দিচ্ছেন, যা আগে থেকেই ভর্তি, তাতে আরও শরবত কি করে দেওয়া যাবে ? আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না। তখন নারায়ণ স্বামী বললেন, আপনার প্রথম অধ্যায়ের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে যে যতক্ষণ পাত্রটি পূর্ণ থাকবে ততক্ষণ এতে নতুন কিছু আসতে পারে না। একইভাবে, তোমার মন অর্থহীন জিনিসে পূর্ণ, আগে সেগুলি সরিয়ে দাও, যতক্ষণ না তোমার মনে অহংকার আছে, তুমি নবীন ভক্তির যোগ প্রাপ্ত করতে পারবে না। নারায়ণ স্বামী বলেন, যেদিন তুমি মন থেকে এসব দূর করবে, সেইদিন আমি তোমাকে উপদেশ প্রদান করব। একইভাবে, আমাদেরও মস্তিষ্ক থেকে ব্যর্থ এবং গুরুত্বহীন কথা বের করতে হবে এবং গীতার শুদ্ধ উচ্চারণ শিখতে হবে এবং তার মনন করতে হবে। গীতাজির দ্বাদশ অধ্যায়টির পাঠ প্রথমে করানো হয়েছে কারণ এটি সবচেয়ে ছোট অধ্যায়। এখানে মাত্র কুড়িটি শ্লোক আছে যা মুখস্ত করা, শেখা খুবই সহজ এবং দ্বিতীয়ত এটি ভক্তি যোগ। নির্গুণ ভক্তি, সগুন ভক্তি, সাকার ও নিরাকার ভক্তি, জ্ঞানমার্গ, ভক্তিমার্গ, জ্ঞান যোগ, ধ্যান যোগ, কর্মযোগ - এই ধরনের অনেক বিষয় গীতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। II
মহাভারতে গল্পে লেখা আছে - ধৃতরাষ্ট্রের নির্দেশে পাণ্ডবদের সাথে ছল করে তাদের তেরো বছরের জন্য বনবাসে পাঠানো হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে যুধিষ্ঠির কিছুই বলেননি এবং ধৃতরাষ্ট্রের আদেশ মেনে বারো বছর বনবাস এবং এক বছরের অজ্ঞাতবাসে চলে যান। তেরো বছর পর যখন পাণ্ডবরা বনবাস থেকে ফিরে আসেন, তখন দুর্যোধন সুচের ডগা সমান জমি দিতে অস্বীকার করেন। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শান্তির দূত হয়ে হস্তিনাপুরে যান, কৃষ্ণ সেখানে পৌঁছলে পাপী দুর্যোধন ও শকুনি বলেন, এই গোয়ালাকে ধরো, যে পাণ্ডবদের জন্য কথা বলতে এসেছে। যখন এটা নিশ্চিত হলো যে যুদ্ধ হবেই, তখনও হস্তিনাপুরের বৈঠকে ভগবান কৃষ্ণ পাপী ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, পাঁচটি গ্রাম পাঁচ পাণ্ডবের জন্য দেওয়া হোক কিন্তু তারা তাতেও রাজি হয়নি। যুধিষ্ঠির সমগ্র বিশ্বের সম্রাট উপাধি তার ভাইদের বীরত্বের কারণে প্রাপ্ত করেছিলেন। যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুন যুদ্ধ না করার পক্ষপাতী ছিলেন এবং নকুল নিরপেক্ষ ছিলেন, একমাত্র সহদেব বলেছিলেন যে যুদ্ধ করাই উচিত। এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়, অতঃপর কুন্তী মাতা একজন দূত পাঠিয়ে যুধিষ্ঠিরের কাছে বার্তা পাঠালেন যে, আপনার প্রজাদের প্রতিও আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে কারণ আপনি একজন ক্ষত্রিয়, একজন রাজা, যে প্রজাগণ দুর্যোধনের অত্যাচার সহ্য করছে, তাদের রক্ষা করা আপনার কর্তব্য। যে দিনের জন্য ক্ষত্রাণি নিজের পুত্রকে জন্ম দেয়, সেই সময় এখন এসে গেছে। যুধিষ্ঠির ধার্মিক ও ধর্মরাজ ছিলেন, তাই মায়ের আদেশ মেনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। যুদ্ধ করার জন্য কুরুক্ষেত্রের ভূমি নির্বাচন করার জন্য কয়েক মাস সময় লেগেছিলো, প্রথমে সেখানের ভৌগোলিক অবস্থা, সেই স্থানের মাটি সমতল কি না এবং প্রচুর সংখ্যক সৈন্যের থাকা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, এই সব বিচার এবং আলোচনা করা হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রে মহারাজ কুরু ও বহু ঋষি তপস্যা করেছিলেন এবং এই তপস্যার প্রভাবেই এই স্থানে যুদ্ধে নিহত সৈন্য ও যোদ্ধাগণ কর্মনির্বিশেষে স্বর্গলাভ করবে, এই ভাবনা থেকেই যুদ্ধের জন্য এই তপো ভূমি বেছে নেওয়া হয়েছিল। জমি সমতল করা হলো, নদীর উপর সেতু তৈরি করা হলো, বহুসংখ্যক ভাণ্ডার তৈরি করা হলো, ঘোড়াশাল, গজশাল তৈরি করতে এবং সব ধরণের ব্যবস্থা করতে বেশ কিছু মাস লেগে গিয়েছিল। মাসের পর মাস দূর-দূরান্ত থেকে সৈন্যরা যুদ্ধস্থলে একত্র হতে থাকে। সাতটি অক্ষৌহিণী সেনা পাণ্ডবদের পক্ষে এবং এগারোটি অক্ষৌহিণী কৌরবদের পক্ষে ছিলো। যেদিন পাণ্ডবদের বনবাসে পাঠানো হয়েছিল, সেদিনই দুর্যোধন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি পাণ্ডবদের রাজ্য ফিরিয়ে দেবেন না এবং পাণ্ডবদের সাথে যুদ্ধ হবে ধরেই নিয়েছিলেন। সেই কারণেই দুর্যোধন সে সময়ে ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজাদের এক বা অন্য অজুহাতে উপহার দিয়ে তাদের থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে যুদ্ধে সাহায্য করার জন্য তারা নিজের সৈন্যবাহিনী পাঠাবেন। দুর্যোধন এইজন্যে তা করেছিলো কারণ তার মনে হয়েছিল তার দ্বারা উপকৃত হলে, যুদ্ধের সময় রাজাগণ তার পক্ষে যোগ দেবেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা ছিল এবং যুধিষ্ঠিরের মামা রাজা শল্যের একটি অক্ষৌহিনী সেনা ছিল।
যুদ্ধের আগের একটা বৃত্তান্ত, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গভীর নিদ্রায় ছিলেন, তখন সেখানে লোভী ও পাপী দুর্যোধন শ্রীকৃষ্ণের কাছে সৈন্যদলের সাহায্য প্রার্থনার জন্য পৌঁছলেন এবং কৃষ্ণকে নিদ্রারত দেখে তাঁর মাথার দিকে বসলেন, সেইসময় অর্জুনও পৌঁছে গেলেন এবং তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পায়ের কাছে গিয়ে বসলেন। ভগবান যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, তিনি প্রথমে অর্জুনকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি কেন এসেছেন? তখন দুর্যোধন বলে উঠলেন, আমি আগে এসেছি, আপনি আমার সঙ্গে প্রথমে কথা বলুন। ভগবান কৃষ্ণ বললেন, ঘুম থেকে উঠে আমি প্রথম অর্জুনকে দেখেছি, তাই আগে তার সঙ্গে কথা বলব, এতে দুর্যোধন বিরক্ত হলেন। তখন ভগবান বললেন, তোমরা উভয়েই আমার আত্মীয়, সেই কারণে আমি তোমাদের কারোর পক্ষ থেকেই যুদ্ধ করব না। একদিকে আমি নিরস্ত্র একা থাকব আর অন্যদিকে সংসারের সুসজ্জিত ও পরাক্রমশালী অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা। দুর্যোধন মনে মনে ভাবলেন, এই নিরস্ত্র কৃষ্ণকে নিয়ে আমি কী করব? তিঁনি তো যুদ্ধও করবেন না। তখনই অর্জুন শ্রী কৃষ্ণকে বললেন, ভগবান ! আপনি এ কি বলছেন, আপনি নিরস্ত্র থাকুন, যুদ্ধ করুন বা না করুন, আমি আপনার সাথেই থাকব। আপনি আমার সাথে থাকলে আমি সবার সাথে একাই লড়তে পারবো। আপনি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন। আমি শুধু আপনাকেই চাই। এতে দুর্যোধন মনে মনে প্রসন্ন হয়ে ভগবানকে বললেন, আমিও আপনাকেই চেয়েছিলাম, কিন্তু অর্জুন তো আমার অনুজ, সে যখন আপনাকে অনুরোধ করেছে, তখন আপনি তার সঙ্গে যান। দুর্যোধন খুব খুশি হয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন এবং ভাবতে লাগলেন যে যিনি সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা তিনিই যুদ্ধ করবেন না এবং আমিও এত বিশাল ও পরাক্রমী সেনাবাহিনী পেয়েছি। শল্য ছিলেন যুধিষ্ঠিরের মাতুল, কিন্তু দুর্যোধন তার আতিথেয়তা করেন। তার জন্য এবং তার সেনাবাহিনীর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করেছিলেন। দুর্যোধন বিভিন্ন স্থানে শিবির করেছিল, যেখানে ভোজনালয়, বিনোদনের সুব্যবস্থা ছিল। শল্যের মনে হল এই সবই যুধিষ্ঠির করেছেন। শল্য যখন সেই আতিথেয়তা উপভোগ করে কুরুক্ষেত্রে পৌঁছতে চলেছেন, তখন কর্ণ ও দুর্যোধন তাদের শিবিরে পৌঁছে গেলেন, শল্য তাদের দেখে রেগে গেলেন, তখন তারা দুজনেই শল্যকে বলেন, আপনি আমাদের মামা। আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করতে এসেছি। শল্য অবাক হয়ে বলল, এই সব আয়োজন কি তোমার? দুর্যোধন বললেন, যুধিষ্ঠিরের মতো দরিদ্রের কাছে ভোজনেরও কোনো ব্যবস্থা নেই, তাহলে সে কীভাবে আপনার এই বিশাল অক্ষোহিনী সেনাবাহিনীর জন্য সব ব্যবস্থা করবে? আপনি আমারও মাতুল, আমি কীভাবে আপনার অবহেলা করব? মাতুল শল্য যুধিষ্ঠিরের নিকট একটি পত্র লিখে জানালেন যে আমি ভ্রমবশতঃ পথে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছি এই ভেবে যে সমস্ত শিবির আপনার দ্বারা স্থাপন করা হয়েছিল। এই সমস্ত প্রতারণা দুর্যোধন করেছে। এখন আমি তার আতিথেয়তা গ্রহণ করেছি, তাই আমাকে তার পক্ষে থেকেই যুদ্ধ করতে হবে এবং আমি যদি তোমার পক্ষে থেকে যুদ্ধ করি তবে এটি অধর্ম হবে। পত্রের উত্তরে যুধিষ্ঠির লিখলেন, ধর্মের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে এটাই মানতে হবে যে, আপনি যদি দুর্যোধনের আতিথেয়তা গ্রহণ করে থাকেন, তবে আপনাকে তার পক্ষ থেকেই যুদ্ধ করা উচিত। এভাবে সাতটি অক্ষৌহিণী সেনা পাণ্ডবদের পক্ষে এবং এগারোটি অক্ষৌহিণী কৌরবদের পক্ষে ছিলো। এর পর যুদ্ধের দিনক্ষণ এবং নিয়ম নিশ্চিত করা হল। ভগবান ও অর্জুন দিব্যা রথে বসে যুদ্ধক্ষেত্রে এলেন এবং উভয় বাহিনী মুখোমুখি হল, তখন অর্জুন শ্রী কৃষ্ণকে বলেন যে ভগবান আমার রথ যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখান থেকে নিয়ে যান, আমি উভয় পক্ষের সেনাবাহিনীকে দেখতে চাই, তখন ভগবান কৃষ্ণ ভীষ্ম পিতামহ ও দ্রোণাচার্যের সামনে রথ নিয়ে গেলেন, তখনই অর্জুন মোহগ্রস্ত হয়ে বললেন যে, এরা দুজন আমার গুরু, এঁদের সঙ্গে আমি কী করে যুদ্ধ করব ? ভীষ্ম পিতামহ আমাকে এত ভালোবাসেন, আমি কিভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারি ? অর্জুন মোহগ্রস্ত হয়ে বলেন, আমি যুদ্ধ করব না এবং তিনি অস্ত্র ত্যাগ করে বসে পড়লেন । অতঃপর ভগবান উপদেশ দিলেন এবং তিনি অর্জুনকে নিমিত্ত বানিয়ে আমাদের সকলকে এই উপদেশ দিয়েছেন, যা পৃথিবীর যে কোন ক্ষেত্রে, যে কোনো সংগ্রামে বিজয়ী হওয়ার, সুখময় জীবনের সূত্র। ভগবান কৃষ্ণ এবং অর্জুনের এই কথোপকথন চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল এবং এটি যুদ্ধের পূর্ববর্তী। সময়ে ঘটিত হয়েছিল। সঞ্জয় যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর দশ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, যখন ভীষ্ম পিতামহ শরসজ্জায় শায়িত হলেন, তখন সঞ্জয় এই সংবাদ দিতে হস্তিনাপুরে যান, তখন ধৃতরাষ্ট্র তাঁকে বললেন, আমাকে যুদ্ধের প্রারম্ভ থেকে বিস্তারিত ভাবে সব বলুন। তখন সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্ত দৃষ্টান্ত শুনিয়েছিলেন।
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে, সমবেতা য়ুয়ুৎসবঃ
মামকা: পাণ্ডবাশ্চৈব, কিমকুর্বত সঞ্জয়॥1.1॥
মামকা: পাণ্ডবাশ্চৈব, কিমকুর্বত সঞ্জয়॥1.1॥
এই শ্লোক দিয়ে ভগবদ্গীতা শুরু হয়েছিল, বেদব্যাস এই আঠারোটি অধ্যায়ের বিষয়ের কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে সাতশটি শ্লোক ছিল। গীতা শেখার জন্য কি কি প্রয়োজনীয়? গীতা শিখতে হলে মনের মলিনতা দূর করা খুবই প্রয়োজন। মনকে শুদ্ধ করা দরকার। এর জন্য একটি গল্প বলা হয়েছে- নারায়ণ স্বামী নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন, তার এক ভালো বন্ধু ছিলেন, তার নাম শ্রমণ জ্ঞানমার্গী। সেই বন্ধু নারায়ণ স্বামীকে খুব সম্মান করতেন। একদিন শ্রমণের মনে চিন্তা এলো, আমি আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু নারায়ণের কাছ থেকে ভক্তির শিক্ষা নিয়ে নিতে পারি। এই ভেবে তিনি নারায়ণজীর কাছে গিয়ে বললেন, আমি শিষ্যরূপে আপনার কাছে এসেছি, আমাকে ভক্তির উপদেশ দিন। নারায়ণ জী তাই শুনে বন্ধুকে বললেন, হাত মুখ ধুয়ে এস, আমি তোমাকে জল এনে দিচ্ছি। শ্রমণ যখন হাত ধুয়ে এসে বসলেন তখন নারায়ণ জী তাকে একটি পাত্রে জল এনে দিলেন। যেই তিনি জল খেতে শুরু করলেন, তখন গুরু বললেন, বেশি জল খেয়ো না, আমি শরবত নিয়ে আসছি। এই বলে নারায়ণ স্বামী একটি পাত্রে শরবত আনলেন, কিন্তু তা পান করার জন্য কোন পাত্র আনলেন না। তখন শ্রমণের মনে প্রশ্ন এলো যে পাত্রে তো জল ভরা রয়েছে, তাহলে তার গুরু এতে শরবত কি করে ঢালবেন? নারায়ণ স্বামী সেই পাত্রে শরবত ঢালতে শুরু করলেন, তখন শ্রমণ দেখলেন পাত্রটি ভরাট হতে চলেছে এবং জল ও শরবতের মিশ্রণ প্রায় পড়ে যাচ্ছে। তাই দেখে শ্রমণ তার গুরুজীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন এই পাত্রে শরবত ঢালছেন? প্রথমত যে পাত্রে জল রয়েছে, সেই পাত্রে শরবত কেন দিচ্ছেন, যা আগে থেকেই ভর্তি, তাতে আরও শরবত কি করে দেওয়া যাবে ? আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না। তখন নারায়ণ স্বামী বললেন, আপনার প্রথম অধ্যায়ের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে যে যতক্ষণ পাত্রটি পূর্ণ থাকবে ততক্ষণ এতে নতুন কিছু আসতে পারে না। একইভাবে, তোমার মন অর্থহীন জিনিসে পূর্ণ, আগে সেগুলি সরিয়ে দাও, যতক্ষণ না তোমার মনে অহংকার আছে, তুমি নবীন ভক্তির যোগ প্রাপ্ত করতে পারবে না। নারায়ণ স্বামী বলেন, যেদিন তুমি মন থেকে এসব দূর করবে, সেইদিন আমি তোমাকে উপদেশ প্রদান করব। একইভাবে, আমাদেরও মস্তিষ্ক থেকে ব্যর্থ এবং গুরুত্বহীন কথা বের করতে হবে এবং গীতার শুদ্ধ উচ্চারণ শিখতে হবে এবং তার মনন করতে হবে। গীতাজির দ্বাদশ অধ্যায়টির পাঠ প্রথমে করানো হয়েছে কারণ এটি সবচেয়ে ছোট অধ্যায়। এখানে মাত্র কুড়িটি শ্লোক আছে যা মুখস্ত করা, শেখা খুবই সহজ এবং দ্বিতীয়ত এটি ভক্তি যোগ। নির্গুণ ভক্তি, সগুন ভক্তি, সাকার ও নিরাকার ভক্তি, জ্ঞানমার্গ, ভক্তিমার্গ, জ্ঞান যোগ, ধ্যান যোগ, কর্মযোগ - এই ধরনের অনেক বিষয় গীতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। II
12.1
এবং(ম্) সততয়ুক্তা য়ে, ভক্তাস্ত্বাং(ম্) পর্য়ুপাসতে য়ে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং(ন্), তেষাং(ঙ্) কে য়োগবিত্তমাঃ।।1।।
যে সকল ভক্ত নিবিষ্ট চিত্তে নিরন্তর আপনার (সগুণ ভগবানের) উপাসনা করেন, এবং যাঁরা অবিনাশী নিরাকারের উপাসনা করেন, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যোগী কে?
বিবেচন: অর্জুন ভগবানকে বললেন, আপনি আমাকে এত কিছু বলছেন, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। ঠিক যেমন একজন লোক ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখানে অনেক ওষুধ আছে, কিন্তু তাকে সেই ওষুধ বলুন, যা খেলে তার রোগ নিবারণ হবে।। আপনি আমাকে ভিন্ন ভিন্ন ঔষধি এবং তাদের গুণের কথা বলছেন, আমি সেসব জানতে চাই না। আপনি বলুন কোনটি আমার জন্য সেরা। অর্জুনকে নিমিত্ত বানিয়ে ভগবান এই সংসারের সকল প্রাণীকে গীতার উপদেশ প্রদান করেছেন। অরণ্যকাণ্ডে লক্ষ্মণ এই কথাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন-
कहहु ग्यान बिराग अरु माया।
कहहु सो भगति करहु जेहिं दाया॥4॥
লক্ষ্মণও একই কথা জিজ্ঞেস করেছেন যে জ্ঞান বড়, ভক্তিও বড়। তখন ভগবান বললেন
धर्म तें बिरति जोग तें ग्याना। ग्यान मोच्छप्रद बेद बखाना॥
ভগবান যেমন অর্জুনকে উত্তর দিয়েছিলেন, তেমনি প্রভু শ্রী রামও ভ্রাতা লক্ষ্মণকে উত্তর দিয়েছিলেন। ভগবান দ্বিতীয় শ্লোকে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
कहहु ग्यान बिराग अरु माया।
कहहु सो भगति करहु जेहिं दाया॥4॥
লক্ষ্মণও একই কথা জিজ্ঞেস করেছেন যে জ্ঞান বড়, ভক্তিও বড়। তখন ভগবান বললেন
धर्म तें बिरति जोग तें ग्याना। ग्यान मोच्छप्रद बेद बखाना॥
ভগবান যেমন অর্জুনকে উত্তর দিয়েছিলেন, তেমনি প্রভু শ্রী রামও ভ্রাতা লক্ষ্মণকে উত্তর দিয়েছিলেন। ভগবান দ্বিতীয় শ্লোকে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
শ্রী ভগবানুবাচ
ময়্যাবেশ্য মনো য়ে মাং(ন্), নিত্যয়ুক্তা উপাসতে
শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাঃ(স্), তে মে য়ুক্ততমা মতাঃ।।2।।
শ্রীভগবান বললেন—আমাতে মন নিবিষ্ট করে নিত্য-নিরন্তর আমাতে যুক্ত হয়ে যেসব ভক্ত পরম শ্রদ্ধা সহকারে আমার (সগুণ-সাকারের) উপাসনা করেন আমার মতে তাঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী ।
বিবেচন: ভগবান অর্জুনকে উত্তর দেন যে যিনি আমার সগুণ ভক্তি করেন তিনি আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয়, যে ব্যক্তি যে ভাব নিয়ে আমাকে ভক্তি করেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের শাস্ত্রে নবধা ভক্তির বিধান দেওয়া আছে :-
ভগবানের দিব্যলীলা শ্রবণ করা, এর আদর্শ পরীক্ষিতকে মানা হয়, ভগবানের মহিমাকে প্রসারিত করা এবং আবাহন করার পথপ্রদর্শক হলেন শুকদেব মুনি, ভগবানকে সর্বক্ষণ স্মরণ করতে থাকা, এর আদর্শ হলেন প্রহ্লাদ, ভগবানের চরণ সেবা করার সৌভাগ্য লক্ষ্মী প্রাপ্ত করেছেন। রাজা পৃথু ভগবানের পুজো করার, অক্রূর ভগবানের উপাসনা, হনুমান দাস্য ভাবের আদর্শ, সখ্যভাব, যেমন ভগবান অর্জুনকে তাঁর সখা মনে করেন। ভগবানকে সখ্যভাব নিয়ে ভক্তি নিবেদন, নিজেকে ভগবানের চরণে সমর্পিত করে দেওয়া, রাজা বলি এর উদাহরণ, এই হলো নয় প্রকারের ভক্তি। ভগবান শবরীকেও নবধা ভক্তির উপদেশ দিয়েছিলেন। ভগবান নবধা ভক্তি সহকারে পুজো অর্চনা করার নিয়ম বলেছেন। যখন আমরা পুজো করতে বসি, তখন আমাদের মনের মধ্যে অনেক চিন্তা ভাবনা আসে, আমাদের মস্তিষ্কে অনবরত কাজের চিন্তা চলতে থাকে, ভগবানও এটা জানেন যে এই ব্যক্তি আমার পুজোয় বসেছে ঠিকই, কিন্তু এর মন আমাতে নেই। তাই ভগবান বলেছেন, আমার প্রতি নিরন্তর মন নিবদ্ধ কর। কোন কিছুতে কিভাবে একাগ্রচিত্ত করতে হয় সেই প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা হয়েছে - একবার একজন ব্যক্তির বিয়ে ঠিক হয়েছে। সে তার বিয়ের জন্য পোশাক তৈরি করে নিয়ে এসেছিলো। সে যখন নিজের বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে যাওয়ার জন্য বেরোচ্ছে, তখন তার তার মা বললেন যে তুমি একলা বেরোবে না কারণ বিয়ের ছেলে বা কনে বিয়ের আগে একলা বাইরে যায় না, তাই যদি তোমার বাইরে বেরোতে হয় তাহলে তুমি তোমার কোনো বন্ধুকে নিয়ে যাও। ঠিক সেইসময় ছেলেটার এক বন্ধু তার সাথে দেখা করতে এসেছিলো, তাকে দেখে ছেলেটি খুশি হয়ে বললো , তুমি খুব ভালো সময়ে এসেছো, আমাকে বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে যেতে হবে। বন্ধু বললো, আমি বাড়ির কাপড় পরে এসেছি, তখন সে বন্ধুকে বলল, তুমি ভিতরে গিয়ে তোমার জামাকাপড় পাল্টে নাও। তার বন্ধু অজান্তেই প্রথম জনের বিয়ের পোশাক পরে তৈরী হয়ে বাইরে এলো। দুই বন্ধু বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেল, প্রথম বন্ধু সেখানে গিয়েই নিজের আত্মীয়কে বললো এ আমার বন্ধু এবং ও আমার পোশাক পরে এসেছে। দ্বিতীয় বন্ধুর এই কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো, সেখান থেকে বাইরে এসে সে রাগে লাল হয়ে বললো, আমি এখন তোমার সাথে কোথাও যাবো না, তোমার পোশাক রেখে দিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। প্রথম বন্ধু বললো, এটা আমার বিয়ের পোশাক তাই খুব প্রিয়, তাই বলে ফেলেছি , আমায় ক্ষমা করো, আমি আর এইরকম বলবো না। তারা যখন দ্বিতীয় আত্মীয়ের বাড়িতে গেল, সেখানেও একই ঘটনা ঘটল, সেখানে প্রথম জন বলল, এ আমার বন্ধু এবং সে যে পোশাক পড়েছে সেটা তার নিজের পোশাক। এই কথা শুনে আবার দ্বিতীয় বন্ধু অসন্তুষ্ট হলো, তখন আবার প্রথম জন তার কাছে ক্ষমা চাইলো। তৃতীয় বাড়িতে গিয়েও আবার প্রথম বন্ধু বললো, এ আমার বন্ধু এবং আমি তার পোশাক সম্পর্কে কিছুই জানি না। এই গল্প থেকে বোঝা গেলো তাই কথা হলো, প্রথম বন্ধুর মন থেকে নিজের পোশাকের ওপরেই পরে ছিল। ভগবানের প্রতি ভক্তি এমনই হওয়া উচিত, তাহলে আমাদের উদ্ধার নিশ্চিত ।
শ্রদ্ধা: যে কাজে শ্রদ্ধা যুক্ত হয়ে যায়, সেখানে পরম আনন্দ লাভ হয়, তাই ভক্তিতে শ্রদ্ধার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন একটা ক্লাসে যদি চল্লিশজন ছাত্র থাকে, তাদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্র অন্যদের থেকে আলাদা, তারা সবসময় পড়াশোনায় মগ্ন থাকে, তারা অন্যদের থেকে আলাদা।
একটি ঘটনার বলা হয়েছে - একটি সাত বছরের শিশু যে কথা বলতে পারে না, তার মা গীতাপাঠের ক্লাসে ভর্তি হন এবং তিনি নিয়মিত ক্লাস করতেন, সেই শিশুটি মায়ের সাথে বসে সেই পাঠ শুনতো। সেই শিশুটি প্রথম যে শব্দ বলেছিল তা গীতার একটি শ্লোকে লেখা ছিলো।
শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্।
অৰ্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্।।
অৰ্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্।।
ভগবানের দিব্যলীলা শ্রবণ করা, এর আদর্শ পরীক্ষিতকে মানা হয়, ভগবানের মহিমাকে প্রসারিত করা এবং আবাহন করার পথপ্রদর্শক হলেন শুকদেব মুনি, ভগবানকে সর্বক্ষণ স্মরণ করতে থাকা, এর আদর্শ হলেন প্রহ্লাদ, ভগবানের চরণ সেবা করার সৌভাগ্য লক্ষ্মী প্রাপ্ত করেছেন। রাজা পৃথু ভগবানের পুজো করার, অক্রূর ভগবানের উপাসনা, হনুমান দাস্য ভাবের আদর্শ, সখ্যভাব, যেমন ভগবান অর্জুনকে তাঁর সখা মনে করেন। ভগবানকে সখ্যভাব নিয়ে ভক্তি নিবেদন, নিজেকে ভগবানের চরণে সমর্পিত করে দেওয়া, রাজা বলি এর উদাহরণ, এই হলো নয় প্রকারের ভক্তি। ভগবান শবরীকেও নবধা ভক্তির উপদেশ দিয়েছিলেন। ভগবান নবধা ভক্তি সহকারে পুজো অর্চনা করার নিয়ম বলেছেন। যখন আমরা পুজো করতে বসি, তখন আমাদের মনের মধ্যে অনেক চিন্তা ভাবনা আসে, আমাদের মস্তিষ্কে অনবরত কাজের চিন্তা চলতে থাকে, ভগবানও এটা জানেন যে এই ব্যক্তি আমার পুজোয় বসেছে ঠিকই, কিন্তু এর মন আমাতে নেই। তাই ভগবান বলেছেন, আমার প্রতি নিরন্তর মন নিবদ্ধ কর। কোন কিছুতে কিভাবে একাগ্রচিত্ত করতে হয় সেই প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা হয়েছে - একবার একজন ব্যক্তির বিয়ে ঠিক হয়েছে। সে তার বিয়ের জন্য পোশাক তৈরি করে নিয়ে এসেছিলো। সে যখন নিজের বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে যাওয়ার জন্য বেরোচ্ছে, তখন তার তার মা বললেন যে তুমি একলা বেরোবে না কারণ বিয়ের ছেলে বা কনে বিয়ের আগে একলা বাইরে যায় না, তাই যদি তোমার বাইরে বেরোতে হয় তাহলে তুমি তোমার কোনো বন্ধুকে নিয়ে যাও। ঠিক সেইসময় ছেলেটার এক বন্ধু তার সাথে দেখা করতে এসেছিলো, তাকে দেখে ছেলেটি খুশি হয়ে বললো , তুমি খুব ভালো সময়ে এসেছো, আমাকে বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে যেতে হবে। বন্ধু বললো, আমি বাড়ির কাপড় পরে এসেছি, তখন সে বন্ধুকে বলল, তুমি ভিতরে গিয়ে তোমার জামাকাপড় পাল্টে নাও। তার বন্ধু অজান্তেই প্রথম জনের বিয়ের পোশাক পরে তৈরী হয়ে বাইরে এলো। দুই বন্ধু বিয়ের কার্ড বিতরণ করতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেল, প্রথম বন্ধু সেখানে গিয়েই নিজের আত্মীয়কে বললো এ আমার বন্ধু এবং ও আমার পোশাক পরে এসেছে। দ্বিতীয় বন্ধুর এই কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো, সেখান থেকে বাইরে এসে সে রাগে লাল হয়ে বললো, আমি এখন তোমার সাথে কোথাও যাবো না, তোমার পোশাক রেখে দিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। প্রথম বন্ধু বললো, এটা আমার বিয়ের পোশাক তাই খুব প্রিয়, তাই বলে ফেলেছি , আমায় ক্ষমা করো, আমি আর এইরকম বলবো না। তারা যখন দ্বিতীয় আত্মীয়ের বাড়িতে গেল, সেখানেও একই ঘটনা ঘটল, সেখানে প্রথম জন বলল, এ আমার বন্ধু এবং সে যে পোশাক পড়েছে সেটা তার নিজের পোশাক। এই কথা শুনে আবার দ্বিতীয় বন্ধু অসন্তুষ্ট হলো, তখন আবার প্রথম জন তার কাছে ক্ষমা চাইলো। তৃতীয় বাড়িতে গিয়েও আবার প্রথম বন্ধু বললো, এ আমার বন্ধু এবং আমি তার পোশাক সম্পর্কে কিছুই জানি না। এই গল্প থেকে বোঝা গেলো তাই কথা হলো, প্রথম বন্ধুর মন থেকে নিজের পোশাকের ওপরেই পরে ছিল। ভগবানের প্রতি ভক্তি এমনই হওয়া উচিত, তাহলে আমাদের উদ্ধার নিশ্চিত ।
শ্রদ্ধা: যে কাজে শ্রদ্ধা যুক্ত হয়ে যায়, সেখানে পরম আনন্দ লাভ হয়, তাই ভক্তিতে শ্রদ্ধার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন একটা ক্লাসে যদি চল্লিশজন ছাত্র থাকে, তাদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্র অন্যদের থেকে আলাদা, তারা সবসময় পড়াশোনায় মগ্ন থাকে, তারা অন্যদের থেকে আলাদা।
একটি ঘটনার বলা হয়েছে - একটি সাত বছরের শিশু যে কথা বলতে পারে না, তার মা গীতাপাঠের ক্লাসে ভর্তি হন এবং তিনি নিয়মিত ক্লাস করতেন, সেই শিশুটি মায়ের সাথে বসে সেই পাঠ শুনতো। সেই শিশুটি প্রথম যে শব্দ বলেছিল তা গীতার একটি শ্লোকে লেখা ছিলো।
য়ে ত্বক্ষরমনির্দেশ্যম্, অব্যক্তং(ম্) পর্য়ুপাসতে
সর্বত্রগমচিন্ত্যং(ঞ্) চ, কূটস্থমচলং(ন্) ধ্রুবম্।।3।।
যাঁরা সম্পূর্ণরূপে নিজ ইন্দ্রিয় বশীভূত করে অচিন্ত্য, সর্বত্র পূর্ণভাবে অবস্থিত, অনির্দেশ্য, কূটস্থ, অচল, ধ্রুব,।
সন্নিয়ম্যেন্দ্রিয়গ্রামং(ম্), সর্বত্র সমবুদ্ধয়ঃ
তে প্রাপ্নুবন্তি মামেব, সর্বভূতহিতে রতাঃ।।4।।
অক্ষর এবং অব্যক্তের একাগ্রের সঙ্গে উপাসনা করেন, সেই প্রাণীমাত্রেরই হিতপরায়ণ এবং সর্বত্র সমবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ আমাকেই প্রাপ্ত হন।
বিবেচন: ভগবান অর্জুনকে বলেন, আমরা সগুণ পরমাত্মাকে জানি, যাকে আমরা দেখতে পারি এবং যাঁর স্বরূপ আমরা তৈরী করতে পারি এবং কল্পনা করতে পারি। ভগবান নিরাকার পরমাত্মা,যার না রূপ আছে না নাম আছে, তাঁর আটটি লক্ষণের কথা বলেছেন :
অক্ষয় - সেই পরমাত্মা যিনি কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হন না, যাঁর কখনও হ্রাস হয় না, বৃদ্ধি হয় না, তিঁনি জন্মও নেন না, তাঁর মৃত্যুও হয় না।
অনির্দেশ্য - আমরা ঈশ্বরের মূর্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলতে পারি যে এটাই ভগবানের প্রতিমা, কিন্তু যদি নিরাকারকে বলতে হয় তবে কোনো নির্দিষ্ট দিক বলতে পারি না কারণ তিঁনি সর্বত্র বিরাজমান।
অব্যক্ত - যাকে ব্যক্ত করা যায় না
গোস্বামী জী বলেন-
नाम रूप दो अकथ कहानी,
समझ पड़े नहीं जाइ बखानी।
को बड़ छोटू कहत अपराधू
কাকে ছোট বলবো আর কাকেই বা বড় বলবো।
সর্বত্র - যিনি সব জায়গায় বিরাজমান।
অচিন্ত্য – যার বিনা কোন নাম ও রূপ কল্পনা করা যায় না।
কূটস্থ - যা কখনও পরিবর্তিত হয় না, যেমন আছে,তেমনই থাকে।
অচল - যা চলায়মান নয়
ধ্রুব - যিনি সর্বদা স্থির।
যিনি সকলের হৃদয়ে বাস করেন তিনি হলেন রাম, কৃষ্ণ সকলকে আকর্ষণ করেন, গোবিন্দ যিনি মন ও ইন্দ্রিয়ের স্বামী এবং যিনি অষ্ট সিদ্ধির কর্তা তিনি হলেন ঈশ্বর।
একবার এক বৃদ্ধা পেঁপে কিনছিলেন, আশি টাকার চারটি পেঁপে কিনে বিশ টাকা ফেরত নিতে ভুলে গেলেন, ফল বিক্রেতা বললেন, দিদি, আপনার বিশ টাকা নিয়ে যান। সেই বৃদ্ধা বুঝতে পারলেন যে ফলওয়ালাটি তাকেই ডাকছে, ঠিক একইভাবে ভগবান তো একই কিন্তু আমরা তাকে অনেক রূপে পুজো করি এবং ডাকি। যিনি সকলের জন্য সমান মনোভাব সম্পন্ন, যেমন, আমরা যখন ভেড়ার পাল মধ্যে দেখি এবং সব ভেড়াদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না, তেমনিই একজন জ্ঞান যোগীও নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পান না। জ্ঞান যোগী সকলের প্রতি সম- ভাবাপন্ন। তার কাছে যে গাভী দুধ দেয় এবং যে গাভী দুধ দেয় না উভয়ই সমান।
छिति जल पावक गगन समीरा ,
पंचरचित् अति अधम सरीरा।
গোস্বামী জী বলেন, এই পঞ্চমহাভূত দিয়ে গঠিত এই অধম শরীর, এটি পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। তাই জ্ঞান যোগী সর্বদা সকলের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন।
অক্ষয় - সেই পরমাত্মা যিনি কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হন না, যাঁর কখনও হ্রাস হয় না, বৃদ্ধি হয় না, তিঁনি জন্মও নেন না, তাঁর মৃত্যুও হয় না।
অনির্দেশ্য - আমরা ঈশ্বরের মূর্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলতে পারি যে এটাই ভগবানের প্রতিমা, কিন্তু যদি নিরাকারকে বলতে হয় তবে কোনো নির্দিষ্ট দিক বলতে পারি না কারণ তিঁনি সর্বত্র বিরাজমান।
অব্যক্ত - যাকে ব্যক্ত করা যায় না
গোস্বামী জী বলেন-
नाम रूप दो अकथ कहानी,
समझ पड़े नहीं जाइ बखानी।
को बड़ छोटू कहत अपराधू
কাকে ছোট বলবো আর কাকেই বা বড় বলবো।
সর্বত্র - যিনি সব জায়গায় বিরাজমান।
অচিন্ত্য – যার বিনা কোন নাম ও রূপ কল্পনা করা যায় না।
কূটস্থ - যা কখনও পরিবর্তিত হয় না, যেমন আছে,তেমনই থাকে।
অচল - যা চলায়মান নয়
ধ্রুব - যিনি সর্বদা স্থির।
যিনি সকলের হৃদয়ে বাস করেন তিনি হলেন রাম, কৃষ্ণ সকলকে আকর্ষণ করেন, গোবিন্দ যিনি মন ও ইন্দ্রিয়ের স্বামী এবং যিনি অষ্ট সিদ্ধির কর্তা তিনি হলেন ঈশ্বর।
একবার এক বৃদ্ধা পেঁপে কিনছিলেন, আশি টাকার চারটি পেঁপে কিনে বিশ টাকা ফেরত নিতে ভুলে গেলেন, ফল বিক্রেতা বললেন, দিদি, আপনার বিশ টাকা নিয়ে যান। সেই বৃদ্ধা বুঝতে পারলেন যে ফলওয়ালাটি তাকেই ডাকছে, ঠিক একইভাবে ভগবান তো একই কিন্তু আমরা তাকে অনেক রূপে পুজো করি এবং ডাকি। যিনি সকলের জন্য সমান মনোভাব সম্পন্ন, যেমন, আমরা যখন ভেড়ার পাল মধ্যে দেখি এবং সব ভেড়াদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না, তেমনিই একজন জ্ঞান যোগীও নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পান না। জ্ঞান যোগী সকলের প্রতি সম- ভাবাপন্ন। তার কাছে যে গাভী দুধ দেয় এবং যে গাভী দুধ দেয় না উভয়ই সমান।
छिति जल पावक गगन समीरा ,
पंचरचित् अति अधम सरीरा।
গোস্বামী জী বলেন, এই পঞ্চমহাভূত দিয়ে গঠিত এই অধম শরীর, এটি পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। তাই জ্ঞান যোগী সর্বদা সকলের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন।
ক্লেশোধিকতরস্তেষাম্, অব্যক্তাসক্তচেতসাম্
অব্যক্তা হি গতির্দুঃখং(ন্), দেহবদ্ভিরবাপ্যতে।।5।।
অব্যক্তে (নির্গুণ ব্রহ্মে) আসক্তচিত্ত সেই সাধকদের (নিজ নিজ সাধনে) অধিক ক্লেশ হয়ে থাকে, কারণ দেহধারী ব্যক্তিদের অব্যক্তের প্রাপ্তি কষ্টে লাভ হয়।
বিবেচন: ভগবান বলেন হে অর্জুন! নিরাকারের প্রতি ভক্তি দেহাভিমানী প্রাণীর পক্ষে সহজ নয়।
য়ে তু সর্বাণি কর্মাণি, ময়ি সন্ন্যস্য মত্পরাঃ
অনন্যেনৈব য়োগেন, মাং(ন্) ধ্যায়ন্ত উপাসতে।।6।।
কিন্তু যাঁরা সমস্ত কর্ম আমাতে অর্পণ করে, মৎ-পরায়ণ হয়ে অনন্যভাবে আমারই ধ্যান বা উপাসনা করেন।
বিবেচন: যে ভক্তগণ আমার সগুণ রূপ পরমেশ্বরকে, অনন্য ভক্তির সাথে উপাসনা করে, আমি তাদের উদ্ধার করি। ভগবান আদিশঙ্করাচার্য গৃহস্থের জন্য পঞ্চদেবের পূজার বিধান দিয়েছিলেন। ভক্তি একজন ইষ্টকে কর, কিন্তু পুজো পঞ্চদেবের করবে। পঞ্চদেবের - একটি স্বরূপ বিষ্ণু রূপ হওয়া উচিত। একটি শিবের রূপ, একটি দেবীর রূপ, একটি গণেশের প্রতিমা এবং সূর্যদেবের উপাসনা করা উচিত। পঞ্চদেবের পুজো সকল গৃহস্থের জন্য অনিবার্য। গুরু এবং ইষ্টদেবতা একই হওয়া উচিত। যেমন একজন স্ত্রী তার স্বামীকে বরণ করে নেয়, তারপর সে তার শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথে সে তার শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর, জা সকলের দেখাশোনা করে এবং সকলের সেবা করে এবং সে তার স্বামীর কারণেই এইসব কার্য করে। একইপ্রকারে, যখন আমরা এক ইষ্টের সাথে যুক্ত হই, তখন আমরা সেই একটি ইষ্টের সাথে যুক্ত ঈশ্বরের সমস্ত রূপের পূজা করি।
তেষামহং(ম্) সমুদ্ধর্তা, মৃত্যুসংসারসাগরাত্
ভবামি নচিরাত্পার্থ, ময়্যাবেশিতচেতসাম্।।7।।
হে পার্থ ! আমাতে সমর্পিত চিত্ত সেই ভক্তদের আমি মৃত্যুরূপ সংসার-সমুদ্র থেকে শীঘ্রই উদ্ধার করে থাকি।
বিবেচন: ভগবান বলেছেন, হে অর্জুন, যে ভক্তগণ আমাতে নিজেকে সমর্পিত করেছে, শীঘ্রই এই সংসাররূপী সমুদ্র থেকে, আমি তাদের উদ্ধার করবো। এই সংসার চক্রে তাদের বারংবার বিচরণ করতে হয় না।
ময়্যেব মন আধত্স্ব, ময়ি বুদ্ধিং(ন্) নিবেশয়
নিবসিষ্যসি ময়্যেব, অত ঊর্ধ্বং(ন্) ন সংশয়ঃ।।8।।
তুমি আমাতে মন নিবিষ্ট কর এবং আমাতেই বুদ্ধি নিয়োগ কর ; তাহলে তুমি আমাতেই বাস করবে (স্থিতিলাভ করবে) এতে কোনো সন্দেহ নেই ।
বিবেচন: ভগবান বলেছেন তুমি আমাতেই মন স্থির করো ও আমাতেই বুদ্ধি অর্পণ করো।
अच्युतम केशवम कृष्ण दामोदरम।
राम नारायणम जानकी वल्लभं।।
কাজ করার সময় সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করো।
अच्युतम केशवम कृष्ण दामोदरम।
राम नारायणम जानकी वल्लभं।।
কাজ করার সময় সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করো।
অথ চিত্তং(ম্) সমাধাতুং(ন্), ন শক্নোষি ময়ি স্থিরম্
অভ্যাসয়োগেন ততো, মামিচ্ছাপ্তুং(ন্) ধনঞ্জয়।।9।।
যদি তুমি আমাতে চিত্ত অচলভাবে স্থির (অর্পণ) করতে সক্ষম না হও, তাহলে হে ধনঞ্জয় ! অভ্যাসযোগের সাহায্যে তুমি আমাকে পাবার চেষ্টা কর।
বিবেচন: যেমনভাবে আমরা ভগবানকে বলি যে আমরা পুজো করতে চাই কিন্তু মন ভগবানে স্থির হয় না, তখন ঈশ্বর বলেন এ কথা আমি জানি। তখন তুমি অভ্যাসের মাধ্যমে আমাকে প্রাপ্ত করার ইচ্ছা কর। মন স্থির হোক বা না হোক, পুজো অবশ্যই করবে। মনে সংকল্প করবে যে জপ করব, আজ এতক্ষণ ধ্যান করব, আজ আমি তৃতীয় অধ্যায় পাঠ করব, আমি অভ্যাস করব, এভাবে অভ্যাসের দ্বারা সবকিছুই সম্ভব।
গোস্বামী জি বলেন :
राम राम रटते रहो, जब लगा घट में प्राण।
कभी तो दीनदयाल के भनक पड़ेगी कान।।
একজন মহাত্মা ছিলেন যিনি অন্ধ ছিলেন, তিনি প্রতিদিন মন্দিরে যেতেন। একবার এক ভক্ত তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে মহাত্মা, আপনি তো চোখে দেখতে পান না,তাহলে আপনি কার দর্শন করতে প্রতিদিন মন্দিরে আসেন ? তখন সেই মহাত্মা উত্তরে বললেন, আমি চোখে দেখতে পাই না, তাতে কি হয়েছে ভগবান তো দেখতে পাচ্ছেন যে আমি তাঁকে দেখতে প্রতিদিন তাঁর দর্শন করতে আসি।
গোস্বামী জি বলেন :
राम राम रटते रहो, जब लगा घट में प्राण।
कभी तो दीनदयाल के भनक पड़ेगी कान।।
একজন মহাত্মা ছিলেন যিনি অন্ধ ছিলেন, তিনি প্রতিদিন মন্দিরে যেতেন। একবার এক ভক্ত তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে মহাত্মা, আপনি তো চোখে দেখতে পান না,তাহলে আপনি কার দর্শন করতে প্রতিদিন মন্দিরে আসেন ? তখন সেই মহাত্মা উত্তরে বললেন, আমি চোখে দেখতে পাই না, তাতে কি হয়েছে ভগবান তো দেখতে পাচ্ছেন যে আমি তাঁকে দেখতে প্রতিদিন তাঁর দর্শন করতে আসি।
অভ্যাসেপ্যসমর্থোসি, মত্কর্মপরমো ভব
মদর্থমপি কর্মাণি, কুর্বন্ সিদ্ধিমবাপ্স্যসি।।10।।
যদি তুমি অভ্যাসযোগেও অসমর্থ হও তবে আমার জন্য কর্মপরায়ণ হও। আমার জন্য কর্ম করতে থাকলেও তুমি সিদ্ধিলাভ করবে।
বিবেচন:ভগবান বলেছেন, যদি তুমি অভ্যাস করতে অসমর্থ হও, তবে তোমার সমস্ত কাজ আমাকে সমর্পণ করো।
অথৈতদপ্যশক্তোসি, কর্তুং(ম্) মদ্যোগমাশ্রিতঃ
সর্বকর্মফলত্যাগং(ন্), ততঃ(খ) কুরু য়তাত্মবান্।।11।।
যদি তুমি আমার যোগের (সমত্বের) আশ্রিত থেকে এইগুলিও (পূর্বশ্লোকে কথিত সাধনগুলি) করতে অসমর্থ হও তাহলে মন ও ইন্দ্রিয়কে সংযত করে সমস্ত কর্মফলের ইচ্ছা ত্যাগ কর।
বিবেচন:ভগবান বলেছেন, তুমি তোমার সমস্ত কাজ আমাকে সমর্পণ করো। এটি সুন্দর করে বোঝানোর জন্য, একটি ভজন প্রস্তুত করা হয়েছে, যার লিঙ্ক এখানে দেওয়া হল।
https://lyricspandits.blogspot.com/2020/03/tera-ramji-karenge-beda-paar-lyrics.html?m=1
ভগবান বলেছেন যখন তোমার মন সংযত হবে, স্থির হবে, তুমি পরম শান্তি লাভ করবে। ভক্তদের লক্ষণগুলি আমরা আগামী সপ্তাহের বিবেচন সত্রে বলা হবে। এই সরল, সুন্দর বিবেচনটি হরি নাম সংকীর্তনের মাধ্যমে শেষ হয়।
এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।
প্রশ্নকর্তা- বজরং জী
প্রশ্ন- ভগবান যেমন রেখেছেন,তেমনই থাকো, এটা কি ঠিক?
উত্তর- আমরা যখন সকলের আশ্রয় ত্যাগ করে ভগবানের শরণে যাই, তখনই ভগবানকে পাওয়া যায়।
প্রশ্নকর্তা- শৈলেশ শাহ জী
প্রশ্ন - কেন গীতার শ্লোক পাঠ করা উচিত? এর দ্বারা কি লাভ হয়?
উত্তর - গীতার সব শ্লোকই মন্ত্র। মন্ত্রের উচ্চারণ সঠিকভাবে করলে তা কার্যকরী হয়, আমাদের জীবন পরিবর্তন করার ক্ষমতা এর মধ্যে রয়েছে। অশুদ্ধ উচ্চারণে ক্ষতি নেই, কিন্তু শুদ্ধ উচ্চারণ শিখে গীতা পাঠ করলে আনন্দলাভ হয়, মনে প্রশান্তি আসে।
প্রশ্নকর্তা- মাধুরী জী
প্রশ্ন- ভগবানের শরণে যাওয়া মানেই কি সবকিছু ত্যাগ করা?
উত্তর- এটা আশ্রয়ের ব্যাপার, যেখানে ঈশ্বরের আশ্রয় নিতে হয়, সেখানে অন্য কোনো আশ্রয় চাওয়া উচিত নয়।
প্রশ্নকর্তা: অঞ্জনা জী
প্রশ্নঃ কেন পঞ্চদেবের পূজা করা উচিত, তার অর্থ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিন ? কেন আমরা শুধু একজন দেবতার পুজো করতে পারি না ?
উত্তরঃ জীবনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের অনেক রকমের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে হয়। শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই জীবনের অনেক প্রকারের স্বরূপ রয়েছে। দেবতাদের পুজো করলে আমাদের জীবনে শান্তি ও স্থিরতা আসে I.পঞ্চদেবতার পুজনাদি ভগবান শঙ্করাচার্য দ্বারা বলে যাওয়া পুজোর বিধি।
প্রশ্নকর্তা: রেনু আগরওয়াল জী
প্রশ্নঃ এইটা দেখা যায় যে শুধু পুরুষরা কেন সূর্যদেবকে জল দেয়, মহিলা ও মেয়েরা কেন দিতে পারে না, বিধি কি এবং পায়ে জল ছিটকে পড়লে কি কোন দোষ আছে ?
উত্তরঃ সূর্যদেবকে সবাই জল দিতে পারে, শুধু পুরুষরাই জল দিতে পারে এমন কোন বিধান নেই, জল পায়ে ছিটকে পড়লে তাতেও দোষ নেই, তবে যদি তা এড়ানো যায়, তাহলে ভালো। এর জন্য এমনভাবে জল অর্পণ করা উচিত যাতে জল যেন পাত্রের মধ্যেই পড়ে।
https://lyricspandits.blogspot.com/2020/03/tera-ramji-karenge-beda-paar-lyrics.html?m=1
ভগবান বলেছেন যখন তোমার মন সংযত হবে, স্থির হবে, তুমি পরম শান্তি লাভ করবে। ভক্তদের লক্ষণগুলি আমরা আগামী সপ্তাহের বিবেচন সত্রে বলা হবে। এই সরল, সুন্দর বিবেচনটি হরি নাম সংকীর্তনের মাধ্যমে শেষ হয়।
এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।
প্রশ্নকর্তা- বজরং জী
প্রশ্ন- ভগবান যেমন রেখেছেন,তেমনই থাকো, এটা কি ঠিক?
উত্তর- আমরা যখন সকলের আশ্রয় ত্যাগ করে ভগবানের শরণে যাই, তখনই ভগবানকে পাওয়া যায়।
প্রশ্নকর্তা- শৈলেশ শাহ জী
প্রশ্ন - কেন গীতার শ্লোক পাঠ করা উচিত? এর দ্বারা কি লাভ হয়?
উত্তর - গীতার সব শ্লোকই মন্ত্র। মন্ত্রের উচ্চারণ সঠিকভাবে করলে তা কার্যকরী হয়, আমাদের জীবন পরিবর্তন করার ক্ষমতা এর মধ্যে রয়েছে। অশুদ্ধ উচ্চারণে ক্ষতি নেই, কিন্তু শুদ্ধ উচ্চারণ শিখে গীতা পাঠ করলে আনন্দলাভ হয়, মনে প্রশান্তি আসে।
প্রশ্নকর্তা- মাধুরী জী
প্রশ্ন- ভগবানের শরণে যাওয়া মানেই কি সবকিছু ত্যাগ করা?
উত্তর- এটা আশ্রয়ের ব্যাপার, যেখানে ঈশ্বরের আশ্রয় নিতে হয়, সেখানে অন্য কোনো আশ্রয় চাওয়া উচিত নয়।
প্রশ্নকর্তা: অঞ্জনা জী
প্রশ্নঃ কেন পঞ্চদেবের পূজা করা উচিত, তার অর্থ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিন ? কেন আমরা শুধু একজন দেবতার পুজো করতে পারি না ?
উত্তরঃ জীবনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের অনেক রকমের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে হয়। শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই জীবনের অনেক প্রকারের স্বরূপ রয়েছে। দেবতাদের পুজো করলে আমাদের জীবনে শান্তি ও স্থিরতা আসে I.পঞ্চদেবতার পুজনাদি ভগবান শঙ্করাচার্য দ্বারা বলে যাওয়া পুজোর বিধি।
প্রশ্নকর্তা: রেনু আগরওয়াল জী
প্রশ্নঃ এইটা দেখা যায় যে শুধু পুরুষরা কেন সূর্যদেবকে জল দেয়, মহিলা ও মেয়েরা কেন দিতে পারে না, বিধি কি এবং পায়ে জল ছিটকে পড়লে কি কোন দোষ আছে ?
উত্তরঃ সূর্যদেবকে সবাই জল দিতে পারে, শুধু পুরুষরাই জল দিতে পারে এমন কোন বিধান নেই, জল পায়ে ছিটকে পড়লে তাতেও দোষ নেই, তবে যদি তা এড়ানো যায়, তাহলে ভালো। এর জন্য এমনভাবে জল অর্পণ করা উচিত যাতে জল যেন পাত্রের মধ্যেই পড়ে।