विवेचन सारांश
ভগবৎপ্রাপ্তির লক্ষণ
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা, দীপ প্রজ্জ্বলন ও শ্রীগুরুর চরণে প্রণাম করার পর পঞ্চদশ অধ্যায়ের প্রথমার্ধের বিবেচন সত্র আরম্ভ হয়। শ্রীকৃষ্ণের পরম মঙ্গলময় কৃপা প্রাপ্ত করে আমাদের এমন সৌভাগ্য উদয় হয়েছে যে এই জীবনকে উদ্ধার করার জন্য, সদুদ্দেশ্যে প্রয়োগ করার জন্য, এই মনুষ্যজীবনকে সার্থক করার জন্য আমরা ভগবদ্গীতা পাঠ করতে, বুঝতে এবং আমাদের জীবনে প্রয়োগে আনতে অগ্রসর হয়েছি। হয়তো বা আমাদের এই জন্মের কোনো সৎকর্ম নাকি পূর্ববর্তী কোন জন্মের সৎকর্ম যার কারণে আমাদের ওপর ভগবানের কৃপাদৃষ্টির বর্ষণ হয়েছে যার কারণে আমরা ভগবানের এই সাধনায় নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি।
গীতাকে শোনা, বোঝা ও জানা, এর চেয়ে সহজ, আনন্দদায়ক এবং কল্যাণকর কোনো পথ মানবজাতির কাছে নেই। বহু আচার্য ও মহাপুরুষগণ বারম্বার এর বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা সবাই যেভাবে গীতার পথে অগ্রসর হতে শুরু করেছি, তা কেবলমাত্র শ্রী ভগবানের কৃপার কারণেই সম্ভব হয়েছে। গীতা পড়ার জন্য আমাদের নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বাদশ অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে, আপনারা বিবেচন শুনেছেন এবং ভক্তের উনচল্লিশটি লক্ষণও জেনেছেন। এটি ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। এটা আচার্যদের নির্দেশ যে আমরা যেন শ্রী গীতার অধ্যয়ন ভক্তিমার্গ দিয়েই শুরু করি।
আজ আমরা পঞ্চদশ অধ্যায় নিয়ে চিন্তন করব। দ্বাদশ অধ্যায় ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় এবং পঞ্চদশ অধ্যায় জ্ঞানমার্গের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়। এই অধ্যায়টি একটু কঠিন, তবুও বোধগম্য। শ্রী গীতার দ্বাদশ ও পঞ্চদশ অধ্যায়, সবচেয়ে ছোট দুটি অধ্যায়। আপনারা দ্বাদশ অধ্যায়ে অনুষ্টুপ ছন্দের কুড়িটি ছোট ছোট শ্লোক পড়েছেন। হয়তো বা এতদিনে কিছু সংখ্যক সাধকেরা দ্বাদশ অধ্যায়টি কণ্ঠস্থও করে নিয়েছেন। পঞ্চদশ অধ্যায়েও কুড়িটি শ্লোক আছে, তবে তার মধ্যে কয়েকটি শ্লোক ত্রিষ্টুপ ছন্দের।
ত্রিষ্টুপ ছন্দ এবং অনুষ্টুপ ছন্দ কি?
অনুষ্টুপ ছন্দে আট - আটটি অক্ষরের একটি চরণ, বত্রিশটি অক্ষরের চারটি চরণকে অনুষ্টুপ ছন্দ বলে। এটি দুইটি পংক্তিতে লেখা হয়েছে। অনুষ্টুপ ছন্দের শ্লোকগুলি সুর ও লয়ের সাথে গাওয়া যায়। ত্রিষ্টুপ ছন্দেরও চারটি চরণ আছে। এতে এক-একটি চরণে এগারোটি করে অক্ষর আছে এবং এভাবে চুয়াল্লিশটি অক্ষরের চারটি চরণ, এটি চারটি পংক্তিতে লেখা হয়েছে। অক্ষরের সংখ্যা অধিক থাকার কারণে ত্রিষ্টুপ ছন্দের শ্লোকগুলি দীর্ঘ। গীতায় এই দুই প্রকারের ছন্দই আছে। এই অধ্যায়টি ছোট, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শ্রী ভগবান একে শাস্ত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
গীতাকে শোনা, বোঝা ও জানা, এর চেয়ে সহজ, আনন্দদায়ক এবং কল্যাণকর কোনো পথ মানবজাতির কাছে নেই। বহু আচার্য ও মহাপুরুষগণ বারম্বার এর বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা সবাই যেভাবে গীতার পথে অগ্রসর হতে শুরু করেছি, তা কেবলমাত্র শ্রী ভগবানের কৃপার কারণেই সম্ভব হয়েছে। গীতা পড়ার জন্য আমাদের নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বাদশ অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে, আপনারা বিবেচন শুনেছেন এবং ভক্তের উনচল্লিশটি লক্ষণও জেনেছেন। এটি ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। এটা আচার্যদের নির্দেশ যে আমরা যেন শ্রী গীতার অধ্যয়ন ভক্তিমার্গ দিয়েই শুরু করি।
আজ আমরা পঞ্চদশ অধ্যায় নিয়ে চিন্তন করব। দ্বাদশ অধ্যায় ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় এবং পঞ্চদশ অধ্যায় জ্ঞানমার্গের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়। এই অধ্যায়টি একটু কঠিন, তবুও বোধগম্য। শ্রী গীতার দ্বাদশ ও পঞ্চদশ অধ্যায়, সবচেয়ে ছোট দুটি অধ্যায়। আপনারা দ্বাদশ অধ্যায়ে অনুষ্টুপ ছন্দের কুড়িটি ছোট ছোট শ্লোক পড়েছেন। হয়তো বা এতদিনে কিছু সংখ্যক সাধকেরা দ্বাদশ অধ্যায়টি কণ্ঠস্থও করে নিয়েছেন। পঞ্চদশ অধ্যায়েও কুড়িটি শ্লোক আছে, তবে তার মধ্যে কয়েকটি শ্লোক ত্রিষ্টুপ ছন্দের।
ত্রিষ্টুপ ছন্দ এবং অনুষ্টুপ ছন্দ কি?
অনুষ্টুপ ছন্দে আট - আটটি অক্ষরের একটি চরণ, বত্রিশটি অক্ষরের চারটি চরণকে অনুষ্টুপ ছন্দ বলে। এটি দুইটি পংক্তিতে লেখা হয়েছে। অনুষ্টুপ ছন্দের শ্লোকগুলি সুর ও লয়ের সাথে গাওয়া যায়। ত্রিষ্টুপ ছন্দেরও চারটি চরণ আছে। এতে এক-একটি চরণে এগারোটি করে অক্ষর আছে এবং এভাবে চুয়াল্লিশটি অক্ষরের চারটি চরণ, এটি চারটি পংক্তিতে লেখা হয়েছে। অক্ষরের সংখ্যা অধিক থাকার কারণে ত্রিষ্টুপ ছন্দের শ্লোকগুলি দীর্ঘ। গীতায় এই দুই প্রকারের ছন্দই আছে। এই অধ্যায়টি ছোট, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শ্রী ভগবান একে শাস্ত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
15.1
শ্রীভগবানুবাচ
ঊর্ধ্বমূলমধঃ(শ্) শাখম্, অশ্বত্থং(ম্) প্রাহুরব্যয়ম্।
ছন্দাংসি য়স্য পর্ণানি, য়স্তং(ব্ঁ) বেদ স বেদবিৎ॥15.1॥
শ্রীভগবান বললেন –ঊর্ধ্বে মূলযুক্ত এবং নিম্নে শাখাবিশিষ্ট যে জগৎরূপ অশ্বত্থবৃক্ষকে (প্রবাহরূপে) অব্যয় বলা হয় এবং বেদ যার পল্লবলসমূহ, সেই জগৎবৃক্ষকে যিনি জানেন, তিনিই বেদবিৎ।
বিবেচন: শ্রী ভগবান অর্জুনকে বলেন, হে অর্জুন! এই অধ্যায়কে তুমি শাস্ত্রের সমতুল্য মনে করবে। আনন্দ বা দুঃখের সময়, যে কোনো অবস্থাই হোক বা কোনো কাজ করার পূর্বে পঞ্চদশ অধ্যায় পাঠ করা যেতে পারে। এই অধ্যায়ে ভগবান শ্রী তাঁর পুরুষোত্তম স্বরূপের বর্ণন করেছেন।
শ্রীভগবান বলেন, হে অর্জুন! এই অশ্বথ গাছের মূল শিকড় আদিপুরুষ পরমেশ্বর ও সংসাররূপী এই অশ্বথ গাছের শাখা-প্রশাখা ব্রহ্মরূপ এবং এই অবিনাশী বৃক্ষের পাতা বেদরূপ। যে ব্যক্তি এই সংসাররূপী বৃক্ষকে মূল তত্ত্বসহিত জানেন, তিনিই বেদকে জেনে নিয়েছেন। অর্থাৎ যে বৃক্ষের শিকড় উপরের দিকে এবং যার শাখা-প্রশাখা নীচের দিকে, সেই সংসাররূপী অশ্বথ বৃক্ষকে(প্রবাহ রূপে) অব্যয় বলা হয় এবং এই সংসাররূপী বৃক্ষ যার পাতা হলো বেদস্বরূপ, যে এই বৃক্ষকে জানেন, তিনি সম্পূর্ণ বেদকে জেনে নিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বলা হয়েছে : একবার স্বামী রামতীর্থ জাহাজে করে চৌদ্দ দিনের জন্য আমেরিকায় যাচ্ছিলেন, জাহাজে থাকাকালীন তার মালপত্র চুরি হয়ে যায়। সেই কথা তিনি জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালেন, তখন ক্যাপ্টেন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমেরিকায় আপনাকে কি কেউ নিতে আসবে? উত্তরে স্বামী রামতীর্থ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি আমাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে যেতে চান না?" এই কথা শুনে ক্যাপ্টেন যারপরনাই খুশি হলেন, কারণ জাহাজের মধ্যে গত চৌদ্দ দিনে স্বামীজীর দৈনন্দিন কর্মের পদ্ধতি দেখে ক্যাপ্টেন যথেষ্ট প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তাকে সসম্মানে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেখানে কথায় কথায় স্বামী রামতীর্থ বললেন যে তিনি গণিত বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ। সেই সময় ক্যাপ্টেনের আট বছরের ছেলে তার বাবাকে গণিতের একটা প্রশ্ন করে। ক্যাপ্টেন তখন স্বামীজীর সাথে তার ছেলের পরিচয় করিয়ে বলেন, তোমার যা প্রশ্ন আছে তা স্বামীজীকে বলো, তিনি তোমার প্রশ্নের সমাধান করে দেবেন।
বাচ্চাটি তখন প্রশ্ন করে সরলরেখা কাকে বলে? স্বামী রামতীর্থ জিজ্ঞেস করেন যে তুমি কি ধরনের উত্তর চাও, যেমন তোমার স্কুলে পড়ানো হয় নাকি তুমি সঠিক উত্তরটা জানতে চাও? স্বামীজীর কথা শুনে ক্যাপ্টেন একটু বিরক্ত হয়েই বললেন যে দুটি বিন্দু যোগ করলেই একটি সরলরেখা তৈরি হয়, এর আর অন্য উত্তর কী হতে পারে? স্বামীজী উত্তর দিলেন:-
দুটি বিন্দুর মধ্যে একটি সরল রেখার বানানোর জন্য তাদের মধ্যে পর্যাপ্ত স্থানের প্রয়োজন হয়।
ক্যাপ্টেন বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং সেই রাতেই তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষককে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। সেই প্রশিক্ষকও স্বামীজীর সাথে তর্কে নেমে নিরুত্তর হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে বিভিন্ন প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই সভায় স্বামী রামতীর্থ প্রতিপাদন(যুক্তি বা প্রমাণের দ্বারা নির্ধারণ) করেছিলেন যে শূন্যের উপরে কিছুই নেই। পরবর্তী সাত দিন তিনি বিভিন্ন সভায় ভাষণ দেন। তার সেই বক্তৃতা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সপ্তম দিনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট তাকে রাত্রিভোজে আমন্ত্রণ করেছিলেন।
শ্রীভগবান বলেন, হে অর্জুন! এই অশ্বথ গাছের মূল শিকড় আদিপুরুষ পরমেশ্বর ও সংসাররূপী এই অশ্বথ গাছের শাখা-প্রশাখা ব্রহ্মরূপ এবং এই অবিনাশী বৃক্ষের পাতা বেদরূপ। যে ব্যক্তি এই সংসাররূপী বৃক্ষকে মূল তত্ত্বসহিত জানেন, তিনিই বেদকে জেনে নিয়েছেন। অর্থাৎ যে বৃক্ষের শিকড় উপরের দিকে এবং যার শাখা-প্রশাখা নীচের দিকে, সেই সংসাররূপী অশ্বথ বৃক্ষকে(প্রবাহ রূপে) অব্যয় বলা হয় এবং এই সংসাররূপী বৃক্ষ যার পাতা হলো বেদস্বরূপ, যে এই বৃক্ষকে জানেন, তিনি সম্পূর্ণ বেদকে জেনে নিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বলা হয়েছে : একবার স্বামী রামতীর্থ জাহাজে করে চৌদ্দ দিনের জন্য আমেরিকায় যাচ্ছিলেন, জাহাজে থাকাকালীন তার মালপত্র চুরি হয়ে যায়। সেই কথা তিনি জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালেন, তখন ক্যাপ্টেন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমেরিকায় আপনাকে কি কেউ নিতে আসবে? উত্তরে স্বামী রামতীর্থ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি আমাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে যেতে চান না?" এই কথা শুনে ক্যাপ্টেন যারপরনাই খুশি হলেন, কারণ জাহাজের মধ্যে গত চৌদ্দ দিনে স্বামীজীর দৈনন্দিন কর্মের পদ্ধতি দেখে ক্যাপ্টেন যথেষ্ট প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তাকে সসম্মানে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেখানে কথায় কথায় স্বামী রামতীর্থ বললেন যে তিনি গণিত বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ। সেই সময় ক্যাপ্টেনের আট বছরের ছেলে তার বাবাকে গণিতের একটা প্রশ্ন করে। ক্যাপ্টেন তখন স্বামীজীর সাথে তার ছেলের পরিচয় করিয়ে বলেন, তোমার যা প্রশ্ন আছে তা স্বামীজীকে বলো, তিনি তোমার প্রশ্নের সমাধান করে দেবেন।
বাচ্চাটি তখন প্রশ্ন করে সরলরেখা কাকে বলে? স্বামী রামতীর্থ জিজ্ঞেস করেন যে তুমি কি ধরনের উত্তর চাও, যেমন তোমার স্কুলে পড়ানো হয় নাকি তুমি সঠিক উত্তরটা জানতে চাও? স্বামীজীর কথা শুনে ক্যাপ্টেন একটু বিরক্ত হয়েই বললেন যে দুটি বিন্দু যোগ করলেই একটি সরলরেখা তৈরি হয়, এর আর অন্য উত্তর কী হতে পারে? স্বামীজী উত্তর দিলেন:-
দুটি বিন্দুর মধ্যে একটি সরল রেখার বানানোর জন্য তাদের মধ্যে পর্যাপ্ত স্থানের প্রয়োজন হয়।
ক্যাপ্টেন বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং সেই রাতেই তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষককে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। সেই প্রশিক্ষকও স্বামীজীর সাথে তর্কে নেমে নিরুত্তর হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে বিভিন্ন প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই সভায় স্বামী রামতীর্থ প্রতিপাদন(যুক্তি বা প্রমাণের দ্বারা নির্ধারণ) করেছিলেন যে শূন্যের উপরে কিছুই নেই। পরবর্তী সাত দিন তিনি বিভিন্ন সভায় ভাষণ দেন। তার সেই বক্তৃতা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সপ্তম দিনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট তাকে রাত্রিভোজে আমন্ত্রণ করেছিলেন।
অধশ্চোর্ধ্বং(ম্) প্রসৃতাস্তস্য শাখা,
গুণপ্রবৃদ্ধা বিষয়প্রবালাঃ।
অধশ্চ মূলান্যনুসন্ততানি,
কর্মানুবন্ধীনি মনুষ্যলোকে।।2।।
ওই জগৎ-বৃক্ষের গুণাদির (সত্ত্ব, রজঃ ও তমো) সাহায্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ও বিষয়রূপ পল্লববিশিষ্ট শাখাগুলি নীচে, মধ্যভাগে ও ঊর্ধ্বে সর্বত্র বিস্তৃত। মনুষ্যলোকে কর্মানুসারে বন্ধনকারী মূল নিম্নে ও ঊর্ধ্বভাগে সর্বলোকে পরিব্যাপ্ত হয়ে চলেছে।
বিবেচন: শ্রীভগবান বলেছেন, সত্ত্ব, রজ ও তম এই তিন গুণের দ্বারা বর্ধিত(পুষ্ট) হয়ে এই সংসাররূপী বৃক্ষের বিষয় রূপ পাতা(পল্লব) সমেত এর শাখা-প্রশাখা নীচে, মাঝখানে ও উপরে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই মনুষ্যলোকে যে মূলতত্ত্ব আমাদের কর্ম অনুসারে আবদ্ধ করে, তা উপর-নীচে সমস্ত লোকেই ব্যাপ্ত। মনুষ্যরূপী বৃক্ষের মূল হলো মাথা(মস্তিস্ক) আর শাখা হল তার শরীর। যদি মাথা থাকে তবেই মানুষ জীবিত অন্যথায় প্রত্যেকটি প্রাণীর মৃত্যু তো নিশ্চিত।
ন রূপমস্যেহ তথোপলভ্যতে,
নান্তো ন চাদির্ন চ সংপ্রতিষ্ঠা।
অশ্বত্থমেনং(ম্) সুবিরূঢমূলম্,
অসঙ্গশস্ত্রেণ দৃঢেন ছিত্ত্বা।।3।।
এই সংসার-বৃক্ষের যেমন রূপ দেখা যায়, বিচার করলে তেমন উপলব্ধ হয় না; কারণ এর আদি-অন্ত বা স্থিতি কিছুই নেই। তাই এই সদৃঢ়মূল জগৎ-সংসাররূপ অশ্বত্থবৃক্ষকে দৃঢ় অনাসক্তিরূপ শস্ত্রের দ্বারা ছেদন করে।
বিবেচন: শ্রী ভগবান বলেন, যেমন একটি গাছের আকৃতি হয়, সংসাররূপী বৃক্ষের আকৃতিও সেই প্রকার। বৃক্ষের একটি শুরু এবং শেষ থাকে, কিন্তু এই ব্রহ্মাণ্ডের কোন আদিও নেই, কোনো অন্তও নেই। নির্গুণস্বরূপ নিরাকার ব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ।
বেদব্যাস নিজের পুত্র শুকদেব মুনিকে রাজা জনকের কাছে দীক্ষার নেওয়ার জন্য পাঠান। জনকপুরীতে পৌঁছে শুকদেব রাজ্যের দ্বারপালকে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, আপনি জনক রাজাকে গিয়ে আমার আগমনবার্তা দিন। দ্বারপাল গিয়ে জনক রাজাকে এই পরিচয় দিলে রাজা বললেন, আমি এই ব্যাপারটি অবগত আছি, আপনি শুকদেব মহারাজকে অপেক্ষা করতে বলুন। দ্বারপাল এসে শুকদেবকে বললেন যে মহারাজ তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। তাই শুনে শুকদেব অত্যন্ত মনঃক্ষুন্ন হলেন, তার মনে হলো আমার আগমনের কথা জেনেও রাজা জনক আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন। এইভাবে প্রতীক্ষারত অবস্থায় ছয়দিন কেটে যায়। প্রতিদিন রাজা অপেক্ষা করতে বলেন এবং শুকদেবও নগরদ্বারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। সপ্তম দিনে শুকদেবের মনে এই ভাবনা এলো যে তিনি রাজাকে নিজের একটি দীর্ঘ পরিচয় দিয়েছেন, সম্ভবত সেই কারণেই রাজা বুঝতে পারেননি। তখন তিনি দারোয়ানকে প্রণাম করে বলেন, আপনি রাজাকে গিয়ে বলুন যে শুকদেব রাজা জনকের কাছ থেকে দীক্ষা নিতে এসেছেন। একথা শুনেই রাজা জনক সিংহাসন থেকে নেমে এসে শুকদেবকে নিজের রাজ্যে স্বাগত জানালেন। শুকদেবকে বিভিন্ন প্রকারের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং তারপর তাকে বিশ্রামের জন্য অতিথিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর রাজা শুকদেবকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন যে আপনি খুব শুভ সময়ে এই রাজ্যে এসেছেন। আজ কুলদেবীর পূজা হবে এবং পূজার বিধি অনুসারে একজন ব্রাহ্মণকে তেল ভর্তি পাত্র নিয়ে সমগ্র রাজ্য প্রদক্ষিণা করতে হয়। আপনি এই শুভ কাজটি করুন। শুকদেব প্রদক্ষিণা করে ফিরে এলে রাজা জনক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এই রাজ্য আপনার কেমন লাগলো? শুকদেব বলেন, আমার মনোযোগ শুধুমাত্র তেলের পাত্রের ওপর ছিল যাতে এক ফোঁটা তেলও না পড়ে। তখন রাজা জনক বলেন, আপনার জ্ঞানের দীক্ষা পূর্ণ হয়েছে।
উপরোক্ত প্রসঙ্গটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে যেই ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কর্তব্য পালন করার সময় প্রতিনিয়ত ভগবান শ্রী ভগবানের ভক্তিতে লীন থাকে এবং তাঁর ভজন স্মরণ করে, তিনি শ্রী ভগবানের অত্যন্ত প্রিয় এবং তাঁর কৃপার পাত্র।
বেদব্যাস নিজের পুত্র শুকদেব মুনিকে রাজা জনকের কাছে দীক্ষার নেওয়ার জন্য পাঠান। জনকপুরীতে পৌঁছে শুকদেব রাজ্যের দ্বারপালকে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, আপনি জনক রাজাকে গিয়ে আমার আগমনবার্তা দিন। দ্বারপাল গিয়ে জনক রাজাকে এই পরিচয় দিলে রাজা বললেন, আমি এই ব্যাপারটি অবগত আছি, আপনি শুকদেব মহারাজকে অপেক্ষা করতে বলুন। দ্বারপাল এসে শুকদেবকে বললেন যে মহারাজ তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। তাই শুনে শুকদেব অত্যন্ত মনঃক্ষুন্ন হলেন, তার মনে হলো আমার আগমনের কথা জেনেও রাজা জনক আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন। এইভাবে প্রতীক্ষারত অবস্থায় ছয়দিন কেটে যায়। প্রতিদিন রাজা অপেক্ষা করতে বলেন এবং শুকদেবও নগরদ্বারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। সপ্তম দিনে শুকদেবের মনে এই ভাবনা এলো যে তিনি রাজাকে নিজের একটি দীর্ঘ পরিচয় দিয়েছেন, সম্ভবত সেই কারণেই রাজা বুঝতে পারেননি। তখন তিনি দারোয়ানকে প্রণাম করে বলেন, আপনি রাজাকে গিয়ে বলুন যে শুকদেব রাজা জনকের কাছ থেকে দীক্ষা নিতে এসেছেন। একথা শুনেই রাজা জনক সিংহাসন থেকে নেমে এসে শুকদেবকে নিজের রাজ্যে স্বাগত জানালেন। শুকদেবকে বিভিন্ন প্রকারের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং তারপর তাকে বিশ্রামের জন্য অতিথিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর রাজা শুকদেবকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন যে আপনি খুব শুভ সময়ে এই রাজ্যে এসেছেন। আজ কুলদেবীর পূজা হবে এবং পূজার বিধি অনুসারে একজন ব্রাহ্মণকে তেল ভর্তি পাত্র নিয়ে সমগ্র রাজ্য প্রদক্ষিণা করতে হয়। আপনি এই শুভ কাজটি করুন। শুকদেব প্রদক্ষিণা করে ফিরে এলে রাজা জনক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এই রাজ্য আপনার কেমন লাগলো? শুকদেব বলেন, আমার মনোযোগ শুধুমাত্র তেলের পাত্রের ওপর ছিল যাতে এক ফোঁটা তেলও না পড়ে। তখন রাজা জনক বলেন, আপনার জ্ঞানের দীক্ষা পূর্ণ হয়েছে।
উপরোক্ত প্রসঙ্গটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে যেই ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কর্তব্য পালন করার সময় প্রতিনিয়ত ভগবান শ্রী ভগবানের ভক্তিতে লীন থাকে এবং তাঁর ভজন স্মরণ করে, তিনি শ্রী ভগবানের অত্যন্ত প্রিয় এবং তাঁর কৃপার পাত্র।
ততঃ(ফ্) পদং(ন্)তৎপরিমর্গিতব্যং(য়্ঁ),
য়স্মিন্গতা ন নিবর্তন্তি ভূয়ঃ।
তমেব চাদ্যং(ম্) পুরুষং(ম্) প্রপদ্যে,
য়তঃ(ফ্) প্রবৃত্তিঃ(ফ্) প্রসৃতা পুরাণী॥15.4॥
তারপর সেই পরমপদ পরমাত্মা, যাঁকে প্রাপ্ত হলে মানুষ আর ইহ জগতে ফিরে আসে না এবং যাঁর হতে অনাদিকাল থেকে এই সৃষ্টি বিস্তারলাভ করেছে—‘আমি সেই আদি পুরুষ পরমাত্মার শরণ গ্রহণ করি' এই বলে তাঁর অন্বেষণ করতে হয়।
বিবেচন: শ্রীকৃষ্ণ বলেন, হে অর্জুন! ভোগ-বিলাস রহিত, মমত্ব রহিত ও আসক্তিবিহীন মানুষও এই জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত নয়। হাজার-লক্ষ জন্মের পরই জন্ম-মৃত্যুর এই বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায়, এমন মানুষও অত্যন্ত বিরল। মনুষ্য পরমপদ পরমাত্মার খোঁজ করে যায় এবং যাঁকে প্রাপ্ত করে নেওয়ার পর মনুষ্য আর এই সংসারে ফিরে আসে না। যাঁর দ্বারা অনাদিকাল থেকে চলে আসা এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কিছু প্রবর্তন ও বিস্তৃত হয়েছে, তুমি সেই আদিপুরুষ পরমাত্মার শরণাগত হও।
নির্মানমোহা জিতসঙ্গদোষা,
অধ্যাত্মনিত্যা বিনিবৃত্তকামাঃ।
দ্বন্দ্বৈর্বিমুক্তাঃ(স্) সুখদুঃখসংজ্ঞৈ,
র্গচ্ছন্ত্যমূঢাঃ(ফ্) পদমব্যয়ং(ন্) তত্।।5।।
যাঁরা অভিমান ও মোহবর্জিত হয়েছেন, যাঁরা সাংসারিক আসক্তিজনিত দোষগুলি জয় করেছেন, যাঁরা নিত্য পরমাত্মতত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত, যাঁরা (স্বদৃষ্টিতে) সমস্ত কামনারহিত হয়েছেন, যাঁরা সুখ-দুঃখরূপ দ্বন্দ্ব হতে মুক্ত, এরূপ (উচ্চ স্থিতিসম্পন্ন) মোহরহিত সাধক ভক্তগণ সেই অবিনাশী পরমপদ পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হন ।
বিবেচন: শ্রী ভগবান বলেন, যে প্রাণী মান-অপমান, রাগ-দ্বেষ,, আপন-পর ইত্যাদি অনুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে যায়, সেই সর্বোত্তম প্রাণী। অর্থাৎ যে ব্যক্তি অভিমান ও আসক্তি থেকে মুক্ত হয়েছেন, যিনি আসক্তির কারণে সৃষ্ট দোষকে জয় করে নিয়েছেন এবং যিনি প্রতিনিয়ত পরমাত্মার ভক্তিতে আবিষ্ট রয়েছেন, যিনি নিজের দৃষ্টিতে সমস্ত কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়েছেন, যিনি সুখ-দুঃখের দ্বন্দ্বসমূহ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়েছেন, এই ধরনের মোহমুক্ত সাধক ও ভক্তরাই সেই অবিনশ্বর পরমপদ পরমাত্মাকে প্রাপ্ত করে।
প্রশ্নকর্তা- অশোক লিমায়ে
প্রশ্ন- অদ্বেষ্ট সর্বভূতানা কিভাবে পালন করা যায়?
উত্তর: অন্যের কাজের উপর আমাদের কোন অধিকার নেই। আমাদের বাবা যা চেয়েছিলেন আমরা তা হতে পারিনি। বাবার কিছু কিছু কথা মেনে নিয়েছি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের মনের কথা শুনেছি। আমি যেন অন্যের প্রতি অদ্বেষ্টা (দ্বেষহীন) হয়ে যাই, যদিও বা সে আমাকে নিজের শত্রু বলেই মনে করে! রাবণের কাছে যাওয়ার সময় রাজা অঙ্গদ শ্রী রামকে জিজ্ঞেস করেন, সেখানে গিয়ে আমরা কি করবো ? শ্রী রাম উত্তরে বলেন -
প্রশ্নকর্তা- হনুমান প্রসাদ বগাদিয়া ভাইয়া
প্রশ্ন- আচার-অনুষ্ঠান ও পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর- আচার অনুষ্ঠানের পদ্ধতিকে আচার পদ্ধতি বলে। শাস্ত্র অনুযায়ী পদ্ধতিতে আচার-অনুষ্ঠান করা উচিত।
প্রশ্নকর্তা- রশ্মি দিদি
প্রশ্ন- মৃত্যুর পর পরের জন্মে যদি অতীত জীবনের কথা মনেই না থাকে, তাহলে পিতৃপুরুষকে তর্পণ করলে তারা কি ভাবে প্রসন্ন হবেন?
উত্তর - মৃত্যুর পর যারা পিতৃলোকে বাস করেন, তাদের পূর্বজন্মের কথা মনে রাখার ও দেখার শক্তি আছে। আমাদের দ্বারা কৃত শ্রাদ্ধ ও তর্পণ গ্রহণ করে তারা তৃপ্তি বোধ করেন। এবং যে পিতৃপুরুষগণ নতুন জন্মে প্রবেশ করে শরীর ধারণ করেছেন তারাও এইসব অনুষ্ঠানে মাধ্যমে পুষ্ট হয়ে প্রসন্ন বোধ করেন।
প্রশ্নকর্তা - সবিতা সিনহা দিদি
প্রশ্ন - নিজের শেষকৃত্য কীভাবে করতে পারি?
উত্তর - জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া(শেষকৃত্য) সম্পাদন করা যায় না। আপনি এই ব্যাপারে নিজের কোনো সুধীজন বা কোনো যোগ্য ব্রাহ্মণকে বলে রাখতে পারেন যাতে আপনার মৃত্যুর পরে তারা যেন আপনার শ্রাদ্ধ বিধি অনুসারে করে। ইতিমধ্যে আপনি নিজেকে গীতাপাঠ বা ঈশ্বরের পূজা-অর্চনার কাজে নিয়োজিত করুন।
প্রশ্নকর্তা- তিস্যা ভাইয়া
প্রশ্ন- বেদের মধ্যে কি শ্রী কৃষ্ণের নাম আছে, না নেই?
উত্তর- বেদের উৎপত্তি অতি প্রাচীন। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অবতাররূপে আবির্ভাব অনেক পরে হয়েছে। বেদে ঈশ্বরের আরাধনার বিধান দেওয়া আছে। তাই আমরা ঈশ্বরের অবতারের পূজা করি। পুরোহিত পূজা করার সময় সমস্ত বৈদিক দেবদেবীদের স্মরণ করেন।
প্রশ্নকর্তা- কৃপা ওয়াদিওয়ালা দিদি
প্রশ্ন- শ্রী রামের চরিত্র সরল, কিন্তু শ্রী কৃষ্ণকে বোঝা এত কঠিন কেন?
উত্তর - শ্রী রাম এবং শ্রী কৃষ্ণ উভয়ের জীবনই কঠিন ও বেদনাদায়ক ছিল। কষ্টের মধ্যেও তাঁরা প্রসন্ন থেকেছেন। দুজনেই অন্যের কল্যাণ হেতু কাজ করেছেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কারাগারে হয়েছিলো। বারবার তাকে বধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রশ্নকর্তা - রাশি দিদি
প্রশ্ন - কেন আমরা দ্বাদশ অধ্যায় থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পাঠ শুরু করি?
উত্তর - আমরা যখন গল্প-কাহিনী পড়ি, তখন সেটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পড়তে পারি। শাস্ত্র শিখতে চাইলে আচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী অধ্যয়ন করা উচিত।
সাধারণ পাঠের দৃষ্টিকোণ থেকে, গীতা প্রথম অধ্যায় থেকে পড়া যেতে পারে, এই অধ্যায়ে অর্জুনের বিষাদের বর্ণন করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভগবান অর্জুনকে প্রথমে তিরস্কার করেন এবং তারপর কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, সাংখ্যযোগ, বুদ্ধিযোগ ও আত্মার জ্ঞান প্রদান করেন। এই দুটি অধ্যায়ই অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। যখন সাধকেরা গীতাপাঠ আরম্ভ করেন, তখন এই দুটি অধ্যায়ের সারমর্ম সহজে বুঝতে পারেন না। ফলস্বরূপ সাধকের পাঠের প্রতি আগ্রহ কমে যায় ।
আমাদের বিদ্বান আচার্য ভক্তিযোগের মাধ্যমে সাধকের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের যাত্রা শুরু করেন। এই দ্বাদশ অধ্যায়টি খুবই সহজ এবং সংক্ষিপ্ত। এই অধ্যায়টি অত্যন্ত সরল, তাই এর পঠন এবং অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ বজায় থাকে। সহজ- সরল অধ্যায় দিয়ে পাঠ শুরু করলে এবং একবার আগ্রহ জেগে উঠলে, ধীরে ধীরে জটিল বিষয়গুলিও সহজ বলে মনে হতে শুরু করে।
প্রশ্নকর্তা - স্বর্ণা কুমারী দিদি
প্রশ্ন - কেন শ্রী রাম সীতাকে অন্যের কথা শুনে ত্যাগ করলেন?
উত্তর: সমাজের চরিত্র ব্যক্তি দ্বারা, দেশের চরিত্র সমাজ দ্বারা এবং বিশ্বের চরিত্র দেশ দ্বারা প্রতিফলিত হয়। শ্রী রাম সীমিত সাধন নিয়েই সীতার সন্ধানে হাজার হাজার মাইল যাত্রা করেছিলেন। বানর ও ভাল্লুকদের একটি বাহিনী সংগ্রহ করে তিনি সেই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা রাবণকে যুদ্ধে পরাজিত করেন।
সীতার প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিলো। সেই সময়কালে রাজা ও সম্রাটদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল। যখন সীতা বাল্মীকি আশ্রমে চলে গিয়েছিলেন, তখন গুরু বশিষ্ঠমুনির অনুরোধ সত্ত্বেও প্রভু রাম পুনরায় বিয়ে করেননি। তিনি সীতার সোনার মূর্তি তৈরি করে অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন। সীতার প্রতি এত প্রেম -ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও, শ্রীরাম রাজধর্মকে তার ব্যক্তিগত ধর্মের ঊর্ধ্বে রাখেন। তিনি শুধু সীতাপতি নন, তিনি অযোধ্যারও রাজা ছিলেন। ভগবানের রূপে তিনি সমালোচকদের বিচার-ভাবনার পরিবর্তনও করতে পারতেন। তিনি এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে রাজধর্মের জন্য নিজের স্ত্রীকেও ত্যাগ করতে হতে পারে। তিনি এমন আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাই তাকে মর্যাদা পুরুষোত্তম বলা হয়।
পাশ্চাত্য সভ্যতায় ব্যক্তিজীবনকে বেশী গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতিতে, যেমন রামায়ণে শ্রী রাম বা মহাভারতে পঞ্চ পাণ্ডব, তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তাদের জীবন পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের কল্যাণের জন্য, শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের জন্য নয়। রাজা দশরথ নিজে থেকে শ্রীরামকে বনে যেতে বলেননি। তথাপি, পিতার প্রতিজ্ঞার কথা জানার পর প্রভু রাম প্রফুল্লচিত্তে বনবাসে চলে গেলেন।
: : প্রশ্নোত্তর : :
প্রশ্নকর্তা- অশোক লিমায়ে
প্রশ্ন- অদ্বেষ্ট সর্বভূতানা কিভাবে পালন করা যায়?
উত্তর: অন্যের কাজের উপর আমাদের কোন অধিকার নেই। আমাদের বাবা যা চেয়েছিলেন আমরা তা হতে পারিনি। বাবার কিছু কিছু কথা মেনে নিয়েছি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের মনের কথা শুনেছি। আমি যেন অন্যের প্রতি অদ্বেষ্টা (দ্বেষহীন) হয়ে যাই, যদিও বা সে আমাকে নিজের শত্রু বলেই মনে করে! রাবণের কাছে যাওয়ার সময় রাজা অঙ্গদ শ্রী রামকে জিজ্ঞেস করেন, সেখানে গিয়ে আমরা কি করবো ? শ্রী রাম উত্তরে বলেন -
काजु हमार तासु हित होई।
रिपु सन करेहु बतकही सोई।
লঙ্কাকাণ্ড (১৭৭:৪)
অর্থাৎ: হে অঙ্গদ ! সেখানে গিয়ে এমনভাবে কথা বলবে যাতে আমাদের কাজও সুচারু ভাবে হয়ে যায় এবং তারও(রাবণ) যেন কল্যাণ হয়।
শ্রী রাম রাবণের প্রতি অদ্বেষ্টা ছিলেন।
লঙ্কাকাণ্ড (১৭৭:৪)
অর্থাৎ: হে অঙ্গদ ! সেখানে গিয়ে এমনভাবে কথা বলবে যাতে আমাদের কাজও সুচারু ভাবে হয়ে যায় এবং তারও(রাবণ) যেন কল্যাণ হয়।
শ্রী রাম রাবণের প্রতি অদ্বেষ্টা ছিলেন।
প্রশ্নকর্তা- হনুমান প্রসাদ বগাদিয়া ভাইয়া
প্রশ্ন- আচার-অনুষ্ঠান ও পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর- আচার অনুষ্ঠানের পদ্ধতিকে আচার পদ্ধতি বলে। শাস্ত্র অনুযায়ী পদ্ধতিতে আচার-অনুষ্ঠান করা উচিত।
প্রশ্নকর্তা- রশ্মি দিদি
প্রশ্ন- মৃত্যুর পর পরের জন্মে যদি অতীত জীবনের কথা মনেই না থাকে, তাহলে পিতৃপুরুষকে তর্পণ করলে তারা কি ভাবে প্রসন্ন হবেন?
উত্তর - মৃত্যুর পর যারা পিতৃলোকে বাস করেন, তাদের পূর্বজন্মের কথা মনে রাখার ও দেখার শক্তি আছে। আমাদের দ্বারা কৃত শ্রাদ্ধ ও তর্পণ গ্রহণ করে তারা তৃপ্তি বোধ করেন। এবং যে পিতৃপুরুষগণ নতুন জন্মে প্রবেশ করে শরীর ধারণ করেছেন তারাও এইসব অনুষ্ঠানে মাধ্যমে পুষ্ট হয়ে প্রসন্ন বোধ করেন।
প্রশ্ন - নিজের শেষকৃত্য কীভাবে করতে পারি?
উত্তর - জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া(শেষকৃত্য) সম্পাদন করা যায় না। আপনি এই ব্যাপারে নিজের কোনো সুধীজন বা কোনো যোগ্য ব্রাহ্মণকে বলে রাখতে পারেন যাতে আপনার মৃত্যুর পরে তারা যেন আপনার শ্রাদ্ধ বিধি অনুসারে করে। ইতিমধ্যে আপনি নিজেকে গীতাপাঠ বা ঈশ্বরের পূজা-অর্চনার কাজে নিয়োজিত করুন।
প্রশ্নকর্তা- তিস্যা ভাইয়া
প্রশ্ন- বেদের মধ্যে কি শ্রী কৃষ্ণের নাম আছে, না নেই?
উত্তর- বেদের উৎপত্তি অতি প্রাচীন। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অবতাররূপে আবির্ভাব অনেক পরে হয়েছে। বেদে ঈশ্বরের আরাধনার বিধান দেওয়া আছে। তাই আমরা ঈশ্বরের অবতারের পূজা করি। পুরোহিত পূজা করার সময় সমস্ত বৈদিক দেবদেবীদের স্মরণ করেন।
প্রশ্নকর্তা- কৃপা ওয়াদিওয়ালা দিদি
প্রশ্ন- শ্রী রামের চরিত্র সরল, কিন্তু শ্রী কৃষ্ণকে বোঝা এত কঠিন কেন?
উত্তর - শ্রী রাম এবং শ্রী কৃষ্ণ উভয়ের জীবনই কঠিন ও বেদনাদায়ক ছিল। কষ্টের মধ্যেও তাঁরা প্রসন্ন থেকেছেন। দুজনেই অন্যের কল্যাণ হেতু কাজ করেছেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কারাগারে হয়েছিলো। বারবার তাকে বধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রশ্ন - কেন আমরা দ্বাদশ অধ্যায় থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পাঠ শুরু করি?
উত্তর - আমরা যখন গল্প-কাহিনী পড়ি, তখন সেটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পড়তে পারি। শাস্ত্র শিখতে চাইলে আচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী অধ্যয়ন করা উচিত।
সাধারণ পাঠের দৃষ্টিকোণ থেকে, গীতা প্রথম অধ্যায় থেকে পড়া যেতে পারে, এই অধ্যায়ে অর্জুনের বিষাদের বর্ণন করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভগবান অর্জুনকে প্রথমে তিরস্কার করেন এবং তারপর কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, সাংখ্যযোগ, বুদ্ধিযোগ ও আত্মার জ্ঞান প্রদান করেন। এই দুটি অধ্যায়ই অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। যখন সাধকেরা গীতাপাঠ আরম্ভ করেন, তখন এই দুটি অধ্যায়ের সারমর্ম সহজে বুঝতে পারেন না। ফলস্বরূপ সাধকের পাঠের প্রতি আগ্রহ কমে যায় ।
আমাদের বিদ্বান আচার্য ভক্তিযোগের মাধ্যমে সাধকের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের যাত্রা শুরু করেন। এই দ্বাদশ অধ্যায়টি খুবই সহজ এবং সংক্ষিপ্ত। এই অধ্যায়টি অত্যন্ত সরল, তাই এর পঠন এবং অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ বজায় থাকে। সহজ- সরল অধ্যায় দিয়ে পাঠ শুরু করলে এবং একবার আগ্রহ জেগে উঠলে, ধীরে ধীরে জটিল বিষয়গুলিও সহজ বলে মনে হতে শুরু করে।
প্রশ্নকর্তা - স্বর্ণা কুমারী দিদি
প্রশ্ন - কেন শ্রী রাম সীতাকে অন্যের কথা শুনে ত্যাগ করলেন?
উত্তর: সমাজের চরিত্র ব্যক্তি দ্বারা, দেশের চরিত্র সমাজ দ্বারা এবং বিশ্বের চরিত্র দেশ দ্বারা প্রতিফলিত হয়। শ্রী রাম সীমিত সাধন নিয়েই সীতার সন্ধানে হাজার হাজার মাইল যাত্রা করেছিলেন। বানর ও ভাল্লুকদের একটি বাহিনী সংগ্রহ করে তিনি সেই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা রাবণকে যুদ্ধে পরাজিত করেন।
সীতার প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিলো। সেই সময়কালে রাজা ও সম্রাটদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল। যখন সীতা বাল্মীকি আশ্রমে চলে গিয়েছিলেন, তখন গুরু বশিষ্ঠমুনির অনুরোধ সত্ত্বেও প্রভু রাম পুনরায় বিয়ে করেননি। তিনি সীতার সোনার মূর্তি তৈরি করে অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন। সীতার প্রতি এত প্রেম -ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও, শ্রীরাম রাজধর্মকে তার ব্যক্তিগত ধর্মের ঊর্ধ্বে রাখেন। তিনি শুধু সীতাপতি নন, তিনি অযোধ্যারও রাজা ছিলেন। ভগবানের রূপে তিনি সমালোচকদের বিচার-ভাবনার পরিবর্তনও করতে পারতেন। তিনি এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে রাজধর্মের জন্য নিজের স্ত্রীকেও ত্যাগ করতে হতে পারে। তিনি এমন আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাই তাকে মর্যাদা পুরুষোত্তম বলা হয়।
পাশ্চাত্য সভ্যতায় ব্যক্তিজীবনকে বেশী গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতিতে, যেমন রামায়ণে শ্রী রাম বা মহাভারতে পঞ্চ পাণ্ডব, তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তাদের জীবন পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের কল্যাণের জন্য, শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের জন্য নয়। রাজা দশরথ নিজে থেকে শ্রীরামকে বনে যেতে বলেননি। তথাপি, পিতার প্রতিজ্ঞার কথা জানার পর প্রভু রাম প্রফুল্লচিত্তে বনবাসে চলে গেলেন।