विवेचन सारांश
আত্মার স্বরূপ বণর্না

ID: 5862
बंगाली - বাংলা
শনিবার, 09 নভেম্বর 2024
অধ্যায় 2: সাংখ্যযোগ
3/7 (শ্লোক 17-28)
ব্যাখ্যাকার: গীতা বিদুষী মাননীয়া বন্দনা বর্ণেকর মহাশয়া


যথারীতি প্রতিবারের মতন প্রথমে হনুমান চল্লিশা সম্মিলিত ভাবে উচ্চারিত হলো। তারপর কৃষ্ণ বন্দনা, দেব দেবীর আরতি এবং অজ্ঞানতা নাশক অন্তরের অন্ধকার কে দূরীকরণের প্রতীক হিসাবে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হলো ।শ্রদ্ধেয়া বক্তা প্রথমে গুরু বন্দনা পরে দেবী সরস্বতীর বন্দনা ও কৃষ্ণ বন্দনা করে গীতা- ধ্যান অংশের কিছু পংক্তি পাঠ করলেন ,তারপরেই তার বক্তব্য সকলের সম্মুখে তুলে ধরলেন। তিনি বলছেন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষে স্বজন দের দেখে অর্জুন অত্যন্ত শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ।তিনি ভগবানকে জানাচ্ছেন যে এই যুদ্ধের জন্য তিনি প্রস্তুত নন ।এমনই অবস্থায় ভগবান অর্জুনের এই মোহ বা শোক দূরীভূত করার জন্য তাকে অতি গভীর আত্মতত্ত্ব জ্ঞান সরল এবং সুন্দর কয়েকটি শ্লোকের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন। আর সেই শ্লোক গুলিরই কিছু অংশ আজকে বিবেচন-সত্রের বক্তার আলোচ্য বিষয়। এই প্রসঙ্গে এই অধ্যায়ের নামকরণ  সম্বন্ধে বক্তা আমাদের সচেতন করেছেন। এই অধ্যায়ের নাম সাংখ্যযোগ ।সাংখ্য দর্শন একদাকপিল মুনি দ্বারা প্রণীত হয়েছিল। এর মূল  বিষয়টি  হলো প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগেই  সকল বস্তুর উৎপত্তি। প্রকৃতি হল জড় আর পুরুষ হলেন চেতন।জড়ের মধ্যে  ছত্রিশটি তত্ত্ব আছে ।জড় পদার্থ ও চেতন ,এ দুটি মিলে জড় পদার্থ সচল হয়ে থাকে । বক্তা  বলছেন এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানের ভাষা ব্যবহার করে বলা যায় শক্তি  যেন চেতন বা পুরুষের সাথে তুলনীয় জড় পদার্থের সাথে শক্তি মিলে তাকে শক্তিময় করে তোলে। শক্তির ভান্ডার বিজ্ঞানসম্মতভাবে সর্বদাই সমপরিমাণ ভাবে বিদ্যমান যাকে আমরা বলে থাকি কনজারভেশন অফ এনার্জি।আর তুলনায় এই চেতনা কিন্তু অবিনাশী। অর্জুনের সমস্ত মানসিক মোহ নষ্ট করে দেবার জন্য ভগবান এবার এখানে  আত্মার পরিচয় পরিস্ফুট করছেন।

2.17

অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি, য়েন সর্বমিদং(ন্) ততম্
বিনাশমব্য়য়স্য়াস্য়, ন কশ্চিত্কর্তুমর্হতি॥17॥

তাঁকেই অবিনাশী বলে জানবে যাঁর দ্বারা এই সমগ্র জগৎ পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। এই অবিনাশীর বিনাশ করতে কেউই সক্ষম নয়। 

আত্মার স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলছেন এই জগৎ আত্মার দ্বারা বা ব্রহ্মের দ্বারা পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। সৃষ্ট জগতের প্রত্যেকটি অণুপরমাণুতে আত্মা নিজেকে ব্যক্ত করে রেখেছেন। এই আত্মা অবিনশ্বর । কখনোই কোন কারণেই এটিকে নাশ করা যায় না। কেউই শত চেষ্টাতেও এই আত্মার পরিবর্তন বা বিনাশ করতে পারে না। আত্মা বা ব্রহ্ম সৎ , ইহার বিনাশ হয়না কারণ এই আত্মার সত্তা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই তিন কালে অবাধিত বা অবিনষ্ট কিন্তু আত্মা ব্যতীত অন্য সবকিছুই অসৎ অর্থাৎ সেগুলি সবই বিনাশীল কারণ তাদের কোন স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই। একমাত্র ব্রহ্মবস্তুই সৎ তার উৎপত্তি বা বিনাশাদী এই সকল ধর্ম নেই।

2.18

অন্তবন্ত ইমে দেহা, নিত্য়স্য়োক্তাঃ(শ্) শরীরিণঃ
অনাশিনো‌ऽপ্রমেয়স্য়, তস্মাদ্য়ুধ্য়স্ব ভারত॥18॥

অবিনশ্বর, অপ্রমেয়, নিত্যস্বরূপ জীবাত্মার এই সকল শরীরকে বিনাশশীল বলা হয়েছে। তাই হে ভরতবংশীয় অর্জুন! তুমি যুদ্ধ করো।

ভগবান আরো বলছেন যে এই তথ্য প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিয়ে দেখানো সম্ভব নয়। এই আত্মা প্রত্যেকটি শরীর ও দেহকে অবলম্বন করে থাকলেও দেহ এবং শরীর বিনাশীল কিন্তু তার অন্তরাত্মাটি বিনাশীল নয়। এই অদ্ভুত তথ্য একমাত্র জ্ঞানীগণ উপলব্ধি করতে সক্ষম। অতএব ভগবান অর্জুনকে সম্বোধন করে বলছেন তার জড় দেহটি কালে বিনষ্ট হবে কিন্তু আত্মা রূপে তিনি অবিনাশী  অতএব যুদ্ধ দ্বারা যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী বলে অর্জুন ভাবছেন সেটি সত্য নয়। মানুষের মৃত্যু হলেও শুধুমাত্র তার শরীরটি নষ্ট হবে আত্মা নয় ,‌কাজেই এই সকল মৃত্যুর জন্য শোক করা অর্থহীন। অর্জুনের তাই শোক ত্যাগ করে বিষাদহীন হয়ে নিজের ধর্ম পালন করা কর্তব্য। অর্জুনের স্বধর্ম হল ক্ষত্রিয় ধর্ম তাই যুদ্ধ করা যা'ক্ষত্রিয় ধর্ম বলে পরিগণিত তাই করা উচিত।

2.19

য় এনং(ব্ঁ) বেত্তি হন্তারং(য়্ঁ), য়শ্চৈনং(ম্) মন্য়তে হতম্ ।
উভৌ তৌ ন বিজানীতো, নায়ং(ম্) হন্তি ন হন্য়তে॥2.19॥

যিনি এই আত্মাকে হত্যাকারী মনে করেন অথবা যিনি এঁকে নিহত বলে মনে করেন তাঁরা উভয়েই আত্মার প্রকৃত স্বরূপ জানেন না; কারণ এই আত্মা প্রকৃতপক্ষে কাউকে হত্যা করেন না এবং কারো দ্বারা হতও হন না।

ভগবান আত্মার অন্যান্য ধর্ম সবিস্তারে বলছেন। যিনি এই আত্মাকে হন্তা বলে মনে করেন এবং যিনি এটিকে নিহত বলে ভাবেন তারা উভয়ই আত্মার প্রকৃত স্বরূপ জানেন না, অজ্ঞানতাবশত তারা এই ভাব ধারণ করেন। আত্মা কাহাকেও হত্যা করেন না এবং আগেই তিনি বলেছেন আত্মা সর্বদা অর্থাৎ সর্বকালে সর্ব অবস্থায়, সর্বস্থানে অবিনাশী রূপে বিদ্যমান আছেন। তিনি কাহারও দ্বারা নিহত হন না। ভগবান এই ভাবে অর্জুনকে যুক্তিসহকারে বুঝিয়ে চলেছেন যে অর্জুনের শোক ,মোহ সব মিথ্যা। যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনের অস্ত্রধারণ করা এক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত।

2.20

ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিন্,
নায়ং(ম্) ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ
অজো নিত্য়ঃ(শ্) শাশ্বতো‌ऽয়ং(ম্) পুরাণো,
ন হন্য়তে হন্য়মানে শরীরে ॥20॥

এই আত্মা কখনও জন্মান না বা মরেনও না এবং আত্মার অস্তিত্ব উৎপত্তিসাপেক্ষ নয়, কারণ আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, সনাতন এবং পুরাতন; শরীর বিনষ্ট হলেও আত্মা বিনষ্ট হন না।

ভগবান আত্মার সম্পর্কে আরো বলছেন এই আত্মা কখনো জন্মগ্রহণ করেন না, কখনো মৃত হন না কারণ আগে না থেকে পরে বিদ্যমান হওয়ার নামই জন্ম আর পূর্বে থেকে পড়ে না থাকার নামই তো মৃত্যু কিন্তু আত্মা তে এই দুই অবস্থার কোনটি বর্তমান নয় অর্থাৎ আত্মা জন্ম ও মৃত্যু রহিত। এটির বৃদ্ধি হয় না লয় হয় না অর্থাৎ কিনা এটি ক্ষয় হীন। শরীর নষ্ট হলেও আত্মা কখনোই বিনষ্ট হয় না। জন্ম, অস্তিত্ব, বৃদ্ধি, পরিণাম ও বিনাশ এই ছটি ধর্ম বা বিকার একমাত্র জড় পদার্থেরই আছে। আত্মা এই ছয় রকম জড়ধর্মের থেকে মুক্ত।

2.21

বেদাবিনাশিনং(ন্) নিত্য়ং(য়্ঁ), য় এনমজমব্য়য়ম্।
কথং(ম্) স পুরুষঃ(ফ্) পার্থ, কং(ঙ্) ঘাতয়তি হন্তি কম্॥2.21॥

হে পার্থ! যিনি এই আত্মাকে অবিনাশী, নিত্য, জন্মরহিত এবং অব্যয় বলে জানেন, তিনি কীভাবে কাকেও হত্যা করবেন বা করাবেন?

অর্জুনকে যুদ্ধে উৎসাহিত করার জন্য আত্মার স্বরূপটি ভগবান একে একে তার কাছে উদ্ধৃত করছেন। এবার বলছেন যিনি এই আত্মাকে অবিনাশী, নিত্য, জন্ম -রহিত এবং অব্যয় বলে জানেন তিনি কিভাবে কাকেই বা হত্যা করেন এবং কাকেই বা হত্যা করান। অর্থাৎ কিনা যিনি আত্মার ধর্ম গুলি উপলব্ধি করেছেন তাদের দ্বারা কখনো  তাহাকে ও হত্যা করা বা হত্যা করানো সম্ভবপরই নয়। যারা আত্মতত্ত্ব জ্ঞান লাভ করেছেন তারা প্রত্যেকেই আত্মার এই ধর্মগুলি সম্বন্ধে অবহিত রয়েছেন কাজেই তাদের কাহাকেও নিহত করার প্রশ্ন ওঠে না। অর্জুনের তাই স্বজনবধের কথা ভাবা সম্পূর্ণভাবে অনুচিত।

2.22

বাসাংসি জীর্ণানি য়থা বিহায়,
নবানি গৃহ্ণাতি নরো‌ऽপরাণি
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা-
ন্য়ন্য়ানি সংয়াতি নবানি দেহী॥22॥

যেমন মানুষ পুরানো বস্ত্র পরিত্যাগ করে অন্য নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, তেমনই জীবাত্মা পুরণো শরীরগুলিকে ত্যাগ করে অন্য নূতন নূতন শরীর গ্রহণ করে।

এই শ্লোকটিতে ভগবান অতি স্বচ্ছ ভাবে দেহত্যাগের চিত্রটি বা মৃত্যুর চিত্রটি অর্জুনের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন মানুষ যেমন বস্ত্র জীর্ণ হয়ে গেলে তা পরিত্যাগ করে এবং নতুন বা অন্য বস্ত্র ধারণ করে তেমনি আত্মা যখন মানুষের শরীর জীর্ণ হয়ে যায় তখন সেই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর গ্রহণ করে থাকে। ভগবান অতি সহজ ভাবে নির্গুণ ব্রহ্মের পরিচয় অন্য শ্লোক গুলিতে বলেছেন সাথে সাথে এখানে তার সগুণ রূপের পরিচয় টিও তুলে ধরেছেন। শরীর রূপ অবলম্বন করে আত্মা নিত্য হয়ে বিরাজমান থাকে। অর্জুনের মনে যেন কোন বিভ্রান্তি না থাকে তার যেন আত্মজ্ঞান লাভ হয় সেই জন্যই এত বিস্তৃতভাবে ভগবান তার প্রিয় শিষ্যকে শ্লোক গুলি বলে চলেছেন এর মধ্যে দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষরাও যারা মৃত্যু সম্বন্ধে ভীত হই তারাও যেন বল ও শক্তি লাভ করতে চলেছি।

2.23

নৈনং(ঞ্)ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি,নৈনং(ন্) দহতি পাবকঃ
ন চৈনং(ঙ্) ক্লেদয়ন্ত্য়াপো, ন শোষয়তি মারুতঃ॥23॥

শস্ত্র এই আত্মাকে কাটতে পারে না, অগ্নি দগ্ধ করতে পারে না, জল সিক্ত করতে পারে না এবং বায়ু এঁকে শুষ্ক করতে পারে না। 

আত্মার স্বরূপ বণর্না করতে অতি সুন্দর এবং সুস্পষ্টভাবে ভগবান বলছেন কোনো শস্ত্র এই আত্মাকে ছেদন করতে পারে না, অগ্নি এটিকে দহন করতে পারে না, জল একে ভিজিয়ে দিতে অক্ষম, বায়ু এটিকে শুষ্ক করতে পারে না। আগেই বলেছেন আত্মা অবিনাশী, তার ধারাবাহিকতা রেখে বলা যায় এই ধর্মগুলি আত্মার জন্য সম্পূর্ণ রূপে প্রযোজ্য। আত্মার এই পরিচয়গুলি পরের শ্লোকে একসাথে বলা হয়েছে।

2.24

অচ্ছেদ্য়ো‌ऽয়মদাহ্য়ো‌ऽয়ম্ , অক্লেদ্য়ো‌ऽশোষ্য় এব চ
নিত্য়ঃ(স্) সর্বগতঃ(স্) স্থাণু(র্),অচলো‌ऽয়ং(ম্) সনাতনঃ॥24॥

কারণ এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য ও অশোষ্য এবং নিত্য, সর্বব্যাপী, অচল, স্থির ও সনাতন।

ভগবান অর্জুনকে বলছেন এই আত্মাকে বিভিন্ন বিশেষণে বিভূষিত করা হয়। আত্মজ্ঞান দ্বারা জানা যায় আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য। অতীত, বতর্মান, ভবিষ্যৎ কালের ঊর্ধ্বে এটির অবস্থান তাই এটি নিত্য। এটি সর্বব্যাপী, স্থির, অচল ও সনাতন।

2.25

অব্য়ক্তো‌ऽয়মচিন্ত্য়োऽয়ম্,‌‌অবিকার্য়োऽয়মুচ্য়তে।
তস্মাদেবং(ব্ঁ) বিদিত্বৈনং(ন্), নানুশোচিতুমর্হসি॥2.25॥

এই আত্মাকে অব্যক্ত, অচিন্ত্য এবং বিকাররহিত বলা হয়। তাই হে অর্জুন ! এই আত্মাকে উক্তপ্রকার জেনে তোমার শোক করা উচিত নয়।

এইরূপ আত্মতত্ত্ব জ্ঞান ভগবান অর্জুনকে দিচ্ছেন তার কারণ তিনি জানেন তার এই প্রিয় সখা, শিষ্য এই জ্ঞান লাভের অধিকারী। এই জ্ঞান লাভ করে আত্মতত্ত্ব সম্বন্ধে বা ব্রহ্ম তত্ত্ব সম্বন্ধে অর্জুনের সকল সংশয় দূরীভূত হবে। অর্জুন উপলব্ধি করতে পারবে এই আত্মাকে যেহেতু ব্যক্ত করা সম্ভব নয় সেহেতু এটি অব্যক্ত। এই আত্মতত্ত্ব চিন্তন ও মননের ঊর্ধ্বে তাই এটিকে অচিন্ত্য বলা যায়। শাস্ত্রে এটিকে অব্যক্ত ,অচিন্ত্য ও অবিকারী বলা হয়েছে অতএব এই আত্মতত্ত্বের সনাতন স্বরূপ অবগত হতে ভগবান অর্জুনকে উপদেশ দিচ্ছেন।এস্বরূপ জেনে অর্জুন যেন তার মনের শোক- বিষাদ পরিত্যাগ করে অস্ত্র তুলে নেন হাতে, ভগবান সেই উদ্দেশ্যে অর্জুন এর কাছে আত্মতত্ত্ব জ্ঞানের ভাণ্ডার উজাড় করে দিচ্ছেন।

2.26


অথ চৈনং(ন্) নিত্য়জাতং(ন্), নিত্য়ং(ব্ঁ) বা মন্য়সে মৃতম্।
তথাপি ত্বং(ম্) মহাবাহো, নৈবং(ম্) শোচিতুমর্হসি॥2.26॥

আর যদি তুমি এই আত্মাকে নিত্য জন্মশীল এবং নিত্য মরণশীল বলে মনে করো, তবুও হে মহাবাহো ! তোমার শোক করা উচিত নয়।

ভগবান শোকগ্রস্ত অর্জুনকে এই ধর্মযুদ্ধ কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করার জন্য আত্মতত্ত্ব সম্বন্ধে বিশদ জ্ঞান দিচ্ছেন এবং তারপরেও বলছেন যদি অর্জুন মনে করে থাকে আত্মা প্রত্যেক শরীরের উৎপত্তির সঙ্গে জাত হন এবং প্রত্যেক শরীরের বিনাশের সাথে মৃত্যুবরণ করে থাকেন তথাপি অর্জুনের তার জন্য শোক বা অনুশোচনা করা কখনোই উচিত নয়।

2.27

জাতস্য় হি ধ্রুবো মৃত্য়ু:(র্), ধ্রুবং(ঞ্) জন্ম মৃতস্য় চ
তস্মাদপরিহার্য়ে‌ऽথে, ন ত্বং(ম্) শোচিতুমর্হসি॥27॥

কারণ এইরূপ মনে করলেও যে জন্মায় তার মৃত্যু নিশ্চিত এবং মৃতের জন্মও নিশ্চিত। সুতরাং এই অপরিহার্য বিষয়ে তোমার শোক করা উচিত নয়।

কারণ হিসাবে ভগবান বলছেন এই পৃথিবীর নিয়ম, যে ব্যক্তি জন্মায় তার মৃত্যু নিশ্চিত। সে তার কর্ম অনুসারে পুনর্জন্ম লাভ করে থাকে, এটি চিরন্তন সত্য। সেইহেতু এই অপরিহার্য বিষয়ে শোক করা অনুচিত কারণ মৃত্যুর কারণ হিসেবে অর্জুন নিজেকে সর্বদা দায়ী করতে পারে না। মানুষ জগতের নিত্য নিয়ম হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেই একদিন। নিজের কর্ম অনুসারে ফলপ্রাপ্তি তার হবে এবং নিশ্চিতভাবে সে পুনর্জন্ম লাভ করবে ।অর্জুন এই নিয়মের মধ্যে কোন মাধ্যম হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না। মানুষ তার নিজ নিজ জীবনে কৃতকর্ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় দেহত্যাগ করবে কাজেই অর্জুনের শোক বা বিষাদ কোনোটিই এক্ষেত্রে উপযুক্ত মনোভাব হতে পারে না ।এটি বিবেচনা করে অর্জুনের অস্ত্র ধারণ করা কর্তব্য।

2.28

অব্য়ক্তাদীনি ভূতানি, ব্য়ক্তমধ্য়ানি ভারত
অব্য়ক্তনিধনান্য়েব, তত্র কা পরিদেবনা॥28॥

হে ভারত ! সমস্ত প্রাণী জন্মের পূর্বে অপ্রকট ছিল, মৃত্যুর পরও অপ্রকট হয়ে যায়, কেবল মধ্যবর্তী সময়েই প্রকটিত থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিলাপ কিসের ?

ভারত বংশের শ্রেষ্ঠ বীর হিসাবে ভগবান অর্জুনকে সম্বোধন করে বলছেন, জীব-গণের শরীর উৎপত্তির পূর্বে অপ্রকাশিত থাকে পরে জীবন কালটি প্রকাশিত ভাবে দেখা যায়। আবার জীবন শেষে অর্থাৎ বিনাশের পর অপ্রকাশিত হয়ে পড়ে।এই নিয়মে জগতে সৃষ্টি- স্থিতি -লয় চক্রাকারে চলতে থাকে।তাই ভগবান তাকে প্রতিপক্ষের স্বজন ও সেনাদিগের বিনাশ নিয়ে চিন্তা গ্রস্ত বা বিষাদযুক্ত হতে বিরত থাকতে  বলছেন।অর্জুনকে বীরের ন্যায় এইভাবে তার ক্ষত্রিয় ধর্ম পালনে  ভগবান উৎসাহিত করে চলেছেন।