विवेचन सारांश
সত্ত্ব, রজ, তম তিন গুণের বর্ণনা
দেবভূমি হৃষিকেশের পবিত্র গঙ্গা তটের পবিত্র ভূমিতে বিরাজমান হয়ে চতুর্দশ অধ্যায় গুণত্রয়বিভাগয়োগ বিবেচন সভা আরম্ভ হলো। গুরুদেবের চরণে প্রণাম এবং মা সরস্বতীর বন্দনা করে এবং মা গঙ্গা ও ভারত মাতার পুণ্য গাঁথার বর্ণনা দিয়ে একটি সুন্দর, প্রেরণাদায়ক ও ভক্তিমূলক কবিতা দিয়ে এই সভার শুভারম্ভ হলো।
यह अविरल तपका फल है,
यह राष्ट्र प्रवाह प्रबल है।
शुभ संस्कृति का परिचायक
भारत माँ का आँचल है।
यह शास्वत है चिर जीवन
मर्यादा धर्म सहारा
यह पुण्य प्रवाह हमारा
यह कल - कल -छल - छल बहती
क्या कहती गंगा धारा
युग - युग से बहता आता
यह पुण्य प्रवाह हमारा।
এই কবিতায় বলা হয়েছে যে এই বিশাল পবিত্র স্রোত অক্ষয় তপস্যার ফল। এটি ভারতের শুভ সংস্কৃতির প্রতীক; ধর্মের চিরন্তন নীতির উপর ভিত্তি করে হিন্দু সংস্কৃতির স্থাপনা। এই গঙ্গা নদীর জলপ্রবাহে যুগ যুগ ধরে আমাদের এই পবিত্র স্রোত (অর্থাৎ সংস্কৃতি) প্রবাহিত হয়ে আসছে। মা গঙ্গার স্তুতি করে করে বলা হয়েছে যে গঙ্গার প্রবাহ ভারত মাতার আঁচল। এইভাবে গীতার জ্ঞান গঙ্গার স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলেছে। পাঁচ হাজার বছর পরেও ভগবদ্গীতা আমাদের মার্গ প্রদর্শন করে চলেছেন, কিন্তু মানুষের মনে কাম, ক্রোধ, লোভের বিকার আজও একই রকম। ভগবান কৃষ্ণ, অর্জুনের মাধ্যমে নিজেদের পরীক্ষা করার কৌশল আমাদের এই অধ্যায়ে, শিখিয়েছেন। এই গুণত্রয়বিভাগয়োগ জানার পর আমরা আমাদের মানসিক বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারি। গুণের দুটি অর্থ - জলের গুণধৰ্ম হলো শীতলতা, সূর্যের প্রকাশ এবং অগ্নির দাহ্যতা। কিন্তু এখানে গুণের অর্থ হলো সেই শেকল যা আমাদের বন্ধনে বেঁধে রাখে। যতক্ষণ আমরা এটা বুঝতে পারবো না যে আমরা কোন বাঁধনে বাধা আছি , আমরা মুক্ত জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবো না। এই অধ্যায় আমাদের আত্মদর্শন :- সেল্ফ স্ক্রীনিং করতে শেখায়।
14.1
শ্রীভগবানুবাচ
পরং(ম্) ভূয়ঃ(ফ্) প্রবক্ষ্যামি, জ্ঞানানাং(ঞ) জ্ঞানমুত্তমম্
যজ্জ্ঞাত্বা মুনয়ঃ(স্) সর্বে, পরাং(ম্) সিদ্ধিমিতো গতাঃ॥1॥
সৃষ্টির ক্রম: উৎপত্তি, স্থিতি ও বিলয়
ভগবানের স্বরূপ: সত্,- চিত্ -আনন্দ
সত্ - যে জীবন কখনো নষ্ট হবে না
চিত্ - সমগ্র জ্ঞান ,সম্পূর্ণ জ্ঞান
আনন্দ- সেই সুখ যা সর্বদা অখণ্ড থাকে
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন যে আত্মজ্ঞানকে উদিত করাই সত্যিকারের শিক্ষা।
Education is manifestation of knowledge Within
যেমন Women Empowerment নারীকে নিজের শক্তির সঙ্গে পরিচয় করায়, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে ।
এই প্রসঙ্গে একটি সুন্দর গল্প বলা হয়েছে :- একজন মহাজন ছিলেন যিনি প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তার ছেলেরা অবিবেচক ও হঠকারী প্রকৃতির ছিল। সেই কারণে মহাজনের মন মেজাজ খারাপ থাকত। তিনি তার অধিকাংশ ধন সম্পদ মাটির নীচে পুঁতে রাখেন। তার এক বন্ধুকে বলেন আমার মৃত্যুর পরে যদি আমার ছেলেরা নিজেদের সব ধন সম্পত্তি উড়িয়ে দেয়, তাহলেই তাদের এই টাকার সন্ধান দিও। মহাজনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বদ অভ্যাসের জেরে সমস্ত টাকাপয়সা উড়িয়ে দিয়ে পথে এসে যায়। তখন তারা আফসোস করতে থাকে, সেইসময় মহাজনের বন্ধু তাদের বলেন যে তাদের বাবা টাকা রেখে গেছেন তবে একটা শর্ত আছে। যখন তারা সৎপথে নিজেদের জীবন ব্যতীত করে, তবেই তিনি সে টাকার সন্ধান দেবেন। কিছুকাল পরে যখন মহাজনের পুত্ররা সৎপথে জীবনযাপন করতে লাগলেন, সেই বন্ধু তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। টাকা পেয়ে মহাজনের পুত্ররা তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। কিন্তু বন্ধু তো কেবল টাকার ওপরের আবরণ সরিয়েছিলেন। একইভাবে,আমাদের গুরু আমাদের অন্তঃকরণের আবরণ মুছে আমাদের জ্ঞানের পথ সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেন।
ইদং(ঞ) জ্ঞানমুপাশ্রিত্য, মম সাধর্ম্যমাগতাঃ
সর্গেপি নোপজায়ন্তে, প্রলয়ে ন ব্যথন্তি চ॥2॥
জড- যার নিজের অস্তিত্বের কোনো জ্ঞান নেই এবং অন্য কারোর অস্তিত্বেরও জ্ঞান নেই। যেমন পাথর।
চৈতন্য - যার নিজের অস্তিত্বের এবং অন্য সকলের অস্তিত্বের জ্ঞান আছে । যেমন, আমরা সবাই প্রাণীমাত্র।
জড় - চেতনার সংযোগে ভগবান যে সৃষ্টির নির্মাণ করেছেন ।
মম যোনির্মহদ্ব্রহ্ম , তস্মিন্ গর্ভং(ন্) দধাম্যহম্
সম্ভবঃ(স্) সর্বভূতানাং(ন্), ততো ভবতি ভারত॥3॥
সর্বযোনিষু কৌন্তেয় , মূর্তয়ঃ(স্) সম্ভবন্তি যাঃ
তাসাং(ম্) ব্রহ্ম মহদ্যোনিঃ(র্), অহং(ম্) বীজপ্রদঃ(ফ্) পিতা॥4॥
তিনটি গুণই সৃষ্টির কাজে আবশ্যক, তাই ভগবান এর বর্ণনা দিয়েছেন।
সত্ত্ব - জ্ঞান (জানা)
রজ - ক্রিয়াশীলতা
তম - ক্রিয়াশূন্য (থেমে যাওয়া)
যেমন আমরা যখন গাড়ি চালাই, স্টিয়ারিং হল সত্ত্বগুণ ,যা আমাদের সঠিক দিক নির্দেশ করে, পেট্রোল হল রজোগুণ, যা সক্রিয়তার প্রতীক এবং তমোগুণ হলো গাড়ীর ব্রেক, গাড়ি থামাবার জন্য, এই তিনটি গুণই আবশ্যক। সত্ত্বগুণ আমাদের জীবনের মানকে পবিত্র ও উন্নত করে। রজোগুণ হলো মধ্যম গুণ। তমোগুণ হলো নিম্নতর গুণ। তমের চেয়ে রজ এবং রজের চেয়ে সত্ত্বগুণ অধিক শ্রেষ্ঠ। সক্রিয় কর্ম অলসতার চেয়ে উত্তম, তবে সক্রিয়তা সঠিক পথে চালিত হওয়া উচিত।
সত্ত্বং(ম্) রজস্তম ইতি, গুণাঃ(ফ্) প্রকৃতিসম্ভবাঃ
নিবধ্নন্তি মহাবাহো, দেহে দেহিনমব্যয়ম্॥5॥
জ্ঞানেশ্বর মহারাজ বলেছেন: हा ज्ञानाने माजतो, अहंकाराने ताठरतो। অর্থাৎ : জ্ঞানের অহংকারও মানুষকে দাম্ভিক বানিয়ে দেয়।
যেমন, এখন আমরা গীতা পড়ছি, গীতা জিজ্ঞাসু, ব্রতী উপাধি প্রাপ্ত করেছি, আমি জ্ঞানী হয়ে গেছি, এই ভাবনা যেই মনে আসে তখনই আমরা জ্ঞানের বাঁধনে আটকা পড়ি। শেকল সোনার (সত্ত্ব) হোক বা রুপোর (রজ) বা পেতলের ( তমো),কিন্তু আসলে তো সেটাও বন্ধন।
তত্র সত্ত্বং(ন্) নির্মলত্বাৎ , প্রকাশকমনাময়ম্
সুখসঙ্গেন বধ্নাতি, জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ॥6॥
একবার এক রাজা এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি সূর্যাস্ত হওয়ার আগে যতদূর দৌড়ে ফিরে আসবে, সেই জমি তোমার হয়ে হবে। কিন্তু সেই ব্যাক্তি দৌড়াতে দৌড়াতে ভুলে যায় যে তাকে ফিরেও আসতে হবে এবং পথেই তার মৃত্যু হয় ও তার জীবন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এই রজোগুণ মানুষকে কর্মের সাথে সাথে ফলের আসক্তির বাঁধনেও বেঁধে দেয়।
कर्तुत्व,भोक्तृत्व और फलासक्ति यह तीन कर्म के बंधन है।
অর্থাৎ : কর্তব্য, ভোগ এবং ফলের প্রতি আসক্তি, এই তিনটি কর্মের বন্ধন।
যেমন একজন মালী বাগানে কেয়ারি (আল-বাঁধা উদ্যান) তৈরি করে। একটি কেয়ারিতে জল ভরে গেলে সেই পথ বন্ধ করে ও অন্য পথ তৈরী করে, জলের গতিও সেই ভাবেই মোড় নেয় ও বইতে থাকে। একইভাবে, পরমাত্মা আমাদের যেদিকে বা যেভাবে নিয়ে যান, তিনি আমাদের দিয়ে যে কর্ম করাতে চান ,আমাদের ফলের আশা না রেখে সেই কর্মই করা উচিত। তমোগুণ আমাদের কি ভাবে বেঁধে রাখে, ভগবান পরবর্তী অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করবেন।
রজো রাগাত্মকং(ম্) বিদ্ধি , তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্
তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় , কর্মসঙ্গেন দেহিনম্॥7॥
তমস্ত্বজ্ঞানজং(ম্) বিদ্ধি, মোহনং(ম্) সর্বদেহিনাম্
প্রমাদালস্যনিদ্রাভিঃ(স্ ), তন্নিবধ্নাতি ভারত॥8॥
এই তিনটি গুণ একে অপরের উপর আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করে রাখে। সময়ের সাথে সাথে গুণ প্রবৃত্তিরও পরিবর্তন হতে থাকে। সকালের পরিবেশে সত্ত্বগুণের আধিক্য থাকে, তাই পড়াশুনা এবং যোগাভ্যাস করার এটি উপযুক্ত সময় । সারাদিন রজোগুনের প্রাধান্য থাকে সেই সময়ে কর্মক্ষমতা এবং সক্রিয়তা অধিক মাত্রায় থাকে। রাতের বেলা তমোগুণের প্রাধান্য থাকে।
সত্ত্বং(ম্) সুখে সঞ্জয়তি, রজঃ(খ্) কর্মণি ভারত
জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ(ফ্), প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত॥9॥
বিবেচন : তিনটি গুণ একে অপরকে দমন করে আধিপত্য বিস্তার করে। রজোগুণ ও তমোগুণকে দমন করলে সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি পায়। সত্ত্বগুণ ও তমোগুণকে দমন করলে রজোগুণ বৃদ্ধি পায়। সত্ত্বগুণ এবং রজোগুণকে দমন করলে তমোগুণ বৃদ্ধি পায়।
পরের শ্লোকগুলিতে ভগবান বলেন গুণাতীতের লক্ষণ বর্ণনা করেছেন।
রজস্তমশ্চাভিভূয়, সত্ত্বং(ম্) ভবতি ভারত
রজঃ(স্) সত্ত্বং(ন্) তমশ্চৈব, তমঃ(স্) সত্ত্বং(ম্) রজস্তথা॥10॥
সর্বদ্বারেষু দেহেস্মিন্ , প্রকাশ উপজায়তে
জ্ঞানং(ম্) যদা তদা বিদ্যাদ্ , বিবৃদ্ধং(ম্) সত্ত্বমিত্যুত॥11॥
আমরা গালিবের একটি পংক্তি থেকে আরও ভালভাবে বুঝতে পারি-
जिंदगी भर ए ग़ालिब एक गलती करता रहा।
धूल चेहरे पर थी, आईना पोंछता रहा ।।
অর্থাৎ : সারাজীবন ধরে গালিব তুই এ কি ভুল করতে থাকলি। ধুলো মুখে লেগেছিল, আর তুই আয়না পরিষ্কার করতে থাকলি।
রজোগুণী মানুষের মন চঞ্চল এবং অশান্ত থাকে কিন্তু সক্রিয়তার কারণে সে সফল হয়।
লোভঃ(ফ্) প্রবৃত্তিরারম্ভঃ(খ্), কর্মণামশমঃ(স্) স্পৃহা
রজস্যেতানি জায়ন্তে , বিবৃদ্ধে ভরতর্ষভ॥12॥
বিবেচন : ভগবান বলেন, হে কুরুনন্দন! তমোগুণ বাড়লে চারিদিকে অজ্ঞানতার অন্ধকার ছেয়ে যায় । বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়। আলস্য, কর্মে অনীহা, নেশা বাড়ে, মোহ আসক্তি বাড়ে।
মহাভারতে স্বয়ং দুর্যোধন বলেছেন :
जानामि धर्मं न च मे प्रवृति। जाना अधर्म नच मे निवृति।
অর্থাৎ : কোনটা ধর্ম তা আমি জানি, কিন্তু তাতে আমার প্রবণতা নেই এবং কোনটা অধর্ম সেটাও আমি জানি, কিন্তু তা থেকে আমার নিবৃত্তি নেই। এইভাবে তমোগুণের আধিক্য মানুষকে ভুল প্রবৃত্তির মধ্যে ফেলে দেয়। রামায়ণের চরিত্র বিভীষণ সত্ত্বগুণের প্রতীক, রাবণ রজোগুণের প্রতীক এবং কুম্ভকর্ণ তমোগুণের প্রতীক।
শেষ সময়ে কোন গুণের উদয় হয় এবং গুণাতীতের বৈশিষ্ট্য কি, সেগুলি পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনা করা হবে।