विवेचन सारांश
স্থিতপ্রজ্ঞ জ্ঞানী পুরুষের লক্ষণ এবং আচরণ
য়দা তে মোহকলিলং(ম্), বুদ্ধির্ব্য়তিতরিষ্য়তি
তদা গন্তাসি নির্বেদং(ম্), শ্রোতব্য়স্য় শ্রুতস্য় চ॥২.৫২
এখানে ভগবান বলেছেন যে যখন তোমার বুদ্ধি মোহ রূপী পঙ্ক অতিক্রম করবে, তখন তুমি বৈরাগ্য প্রাপ্ত করবে। বৈরাগ্য মানে কোনো প্রকার আসক্তি না থাকা, কোনো বস্তুকে আঁকড়ে না থাকা। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয় এমন কোনো বিকারে বিচলিত না হওয়া। কোন প্রকার আকর্ষণ বা প্রলোভনে বিচলিত না হওয়া।
শ্রুতিবিপ্রতিপন্না তে, য়দা স্থাস্য়তি নিশ্চলা
সমাধাবচলা বুদ্ধি:(স্),তদা যোগমবাপ্স্য়সি॥ ২.৫৩
ভগবান এর জন্য উপায়ও বলেছেন। ভগবান বলেছেন যখন আমাদের অন্তরাত্মা পরমাত্মার সাথে এক হয়ে যায়, তখন কোন প্রকারের প্রলোভনে বিক্ষিপ্ত হয় না এবং মন, বুদ্ধি, মন, অহং সবই পরমাত্মার সাথে একাকার হয়ে যায় এবং একেই যোগ বলে। সমাধিতে বুদ্ধি অচল হয়ে যায় অর্থাৎ বুদ্ধি যখন পরমাত্মার মধ্যে স্থির হয়ে যায়, তখন যোগের প্রাপ্তি হয়। এখানে অর্জুনের মনে একটি প্রশ্ন জাগে যে, এমন কোন ব্যক্তি কি আছে যার অন্তরাত্মা পরমাত্মায় স্থির? তাকে কিভাবে চিনতে পারবো ?
2.54
অর্জুন উবাচ
স্থিতপ্রজ্ঞস্য় কা ভাষা, সমাধিস্থস্য় কেশব
স্থিতধীঃ(খ্) কিং(ম্) প্রভাষেত,কিমাসীত ব্রজেত কিম্॥54॥
প্রজ্ঞা অর্থাৎ -
शुद्ध, विवेकवति बुद्धि। অর্থাৎ প্রগাঢ় এবং সম্যক জ্ঞান। যাঁর প্রজ্ঞা পরমাত্মায় স্থিত আছে, তাকে স্থিতপ্রজ্ঞ বলে। স্বামী সমর্থ রামদাস শিবাজী মহারাজের পুত্র সম্ভাজী মহারাজকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন যে আপনি আপনার পিতার জীবনী দেখুন এবং তাকে অনুসরণ করুন। এইটুকু করলেই আপনার জীবন পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
शिवरायां चे कैसे बोलणे, शिवरायांचे कैसे चालणे, शिवरायांचे सलगी देणे कैसे।
ভগবান এখানে স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির লক্ষণ বলেছেন। ভগবান আমাদের সমস্ত সদগুণের তালিকা দিয়েছেন। এই মানবজীবনের অভীষ্টই হলো সদগুণের সাধনা।
सद्गुणों की साधना में, ध्येय-ज्योति नित जले,
संग्राम मय जीवन धरा पर, विजय रथ हम ले चले।
আমাদের অভীষ্ট দৃঢ় হওয়া উচিত। আমরা যদি বিজয়ের রথে আরোহণ করতে চাই, তাহলে আমাদের নিজের মধ্যে সদগুণ (half d sadgun) আত্মস্থ করতে হবে। পরবর্তী শ্লোকগুলিতে ভগবান সিদ্ধপুরুষদের লক্ষণ কি, তা বলেছেন। এটা জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সিদ্ধপুরুষদের লক্ষণই হলো আমাদের সাধনার লক্ষ্য। সাধনার মাধ্যমে আমাদের সেই গুণগুলোই আত্মস্থ করতে হবে।
শ্রীভগবানুবাচ
প্রজহাতি য়দা কামান্, সর্বান্পার্থ মনোগতান্
আত্মন্য়েবাত্মনা তুষ্টঃ(স্), স্থিতপ্রজ্ঞস্তদোচ্য়তে॥55॥
शरीरं आद्यं खलु धर्म साधनं।
আমাদের এই শরীর হলো ধর্ম পালন করার জন্য প্রদত্ত যন্ত্র। আমরা যেভাবে নিজের গাড়ির যত্ন নিই, ঠিক একইভাবে আমাদের শরীর রূপী গাড়ির যত্ন নিতে হয়।
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ(স্), সুখেষু বিগতস্পৃহঃ
বীতরাগভয়ক্রোধঃ(স্), স্থিতধীর্মুনিরুচ্য়তে॥56॥
য়ঃ(স্) সর্বত্রানভিস্নেহ:(স্),তত্তত্প্রাপ্য় শুভাশুভম্
নাভিনন্দতি ন দ্বেষ্টি, তস্য় প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥57॥
चंद्रबिंब परिपूर्ण सर्वा प्रकाश देते समान,
ऐसे ज्यांचे अंतःकरण सर्वाठायी समभाव ।
সে ভালোও দেখে না আবার মন্দও দেখে না। তার সম বুদ্ধি আছে। শুভ হোক বা অশুভ হোক, দুটোকেই সমদৃষ্টিতে দেখেন। আমরা অশুভ কথাকে ঘৃণা করি কিন্তু এইপ্রকার ব্যক্তি, মনের মধ্যে কোনো ঘৃণাভাব পোষণ করেন না। যে ব্যক্তি সাধু, তাঁর মনে দ্বেষভাব থাকা অসম্ভব। দ্বাদশ অধ্যায়েও ভগবান একই কথা বলেছেন যে, যে ভক্ত সেই অদ্বেষ্টা অর্থাৎ দ্বেষ-শূন্য। সকল জীবের প্রতি তিনি দ্বেষ শূন্য ভাব পোষণ করেন। এমন ব্যক্তির প্রজ্ঞা, স্থির ও প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভগবান শ্রী রামকে মর্যাদা পুরুষোত্তম বলা হয়। ভগবান যখন মানব রূপে জন্ম নিলেন, তখন তিনি নিজেকে মর্যাদায় আবদ্ধ করলেন। তিনি তার শত্রু রাবণের প্রতিও দ্বেষভাব রাখতেন না। তাকে হত্যা করার পর, তিঁনি বিভীষণকে, তার ভ্রাতার শেষকৃত্য সম্পূর্ণ সম্মানের সাথে করতে বলেছিলেন। বিভীষণ বললেন, আমি রাবণকে আমার ভ্রাতা বলে মনে করি না। তখন প্রভু রাম বললেন, বিভীষণ ! তাকে আমার ভ্রাতা মনে করে শেষকৃত্য কর। শত্রুর প্রতিও মনের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ ছিলো না। আমাদের আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে কর্তব্য পালন করতে হয়, তা প্রভু রাম দেখিয়েছেন।
আমাদের দেশের সেনাবাহিনীও সৈন্যদের মৃত্যুর পর তাদের পূর্ণ যত্ন নেয়, এমনকি তারা শত্রু হলেও।
য়ঃ(স্) সর্বত্রানভিস্নেহ:(স্),তত্তত্প্রাপ্য় শুভাশুভম্ নাভিনন্দতি ন দ্বেষ্টি, তস্য় প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥57॥
स्वेच्छेनेच आवरी तैसी इंद्रिय स्वाधीन होऊन ज्याचां इच्छेनुसार करिती वर्तन।
ইন্দ্রিয়গুলি এইপ্রকার ব্যক্তির অধীন। ইন্দ্রিয়, তার ইচ্ছা অনুসারে আচরণ করে। এমন ব্যক্তির প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত।
বিষয়া বিনিবর্তন্তে, নিরাহারস্য় দেহিনঃ
রসবর্জং(ম্) রসোऽপ্য়স্য়, পরং(ন্) দৃষ্ট্বা নিবর্ততে॥59॥
এই প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা হয়েছে : একবার একজন কীর্তনকার তার দল নিয়ে কীর্তন করতে করতে এক স্থানে পৌঁছলেন। তিনি সাথীদের জিজ্ঞাসা করলেন- আপনাদের মনে আছে গত বছরও আমরা এখানে কীর্তন করতে এসেছি? তখন তার দলের একজন সাথী বলল, হ্যাঁ মনে আছে, সেবার খুব সুস্বাদু ক্ষীর খেয়েছিলাম। তখন কীর্তনকার বললেন, তোমার কীর্তনের কথা মনে আছে নাকি এক বছর পরেও সেই ক্ষীরের কথাই মনে রেখেছো ? এভাবে সাধারণ মানুষ বিষয় নিয়ে চিন্তন করতে থাকে।
জ্ঞানেশ্বর মহারাজ বলেছেন-
पालवी खुडावी वरचे वरी आणि उदक घालावे मुळावरी,
मग कैसा होईल नाश तरी त्या वृक्षाचा।
গাছের পাতা ছিড়ে নিলে এবং শিকড়ে জল দিতে থাকলে বৃক্ষ নষ্ট হয় না। একইভাবে বিষয়গুলোকে দূরে রেখে, সেগুলো নিয়ে বারবার ভাবলে আসক্তি দূর হতে পারে না। মানুষ, শরীরের অন্যান্য বিষয় ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু জিহ্বার স্বাদ ত্যাগ করা খুব কঠিন।
विषय अन्य शरीराचे सुटतील जिव्हेचे न सुटे।
শরীরের জন্য আহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আহারের কথা মনে এলেই আমরা খাবারের কথা ভাবতে শুরু করি। এই বিষয় নিয়ে মনুষ্যের প্রতিনিয়ত চিন্তন, ভগবানের আক্ষেপের মূল কারণ।
য়ততো হ্য়পি কৌন্তেয়, পুরুষস্য় বিপশ্চিতঃ
ইন্দ্রিয়াণি প্রমাথীনি, হরন্তি প্রসভং(ম্) মনঃ॥60॥
তানি সর্বাণি সংয়ম্য়, যুক্ত আসীত মত্পরঃ
বশে হি য়স্য়েন্দ্রিয়াণি, তস্য় প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥61॥
ধ্য়ায়তো বিষয়ান্পুংসঃ(স্), সঙ্গস্তেষূপজায়তে
সঙ্গাত্সঞ্জায়তে কামঃ(খ্), কামাত্ক্রোধোऽভিজায়তে॥62॥
ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ(স্), সম্মোহাত্স্মৃতিবিভ্রমঃ
স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো, বুদ্ধিনাশাত্প্রণশ্য়তি॥63॥
বিবেচন : মানুষ প্রতিনিয়ত ইন্দ্রিয়ের বিষয়সমূহের চিন্তন করতে থাকে, তাই তার মন বিষয়সমূহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। ইচ্ছা পূরণ না হলে ক্রোধ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ বলে যে হনুমানজীর মন্দিরে এগারোবার প্রদক্ষিণ করলে মনোকামনা পূরণ হয়, তবে প্রদক্ষিণ করার সময় বানরের ধ্যান করা উচিত নয়। এই কথা শুনলেই আমাদের মনোযোগ বানরের দিকে চলে যায় এবং মন বিষয়সমূহে আটকে যায়। এইভাবে বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে কামনা-বাসনা জাগ্রত হয় এবং ক্রোধও জাগ্রত হয়। এই কারণেই ইচ্ছা পূরণ হলে এবং ইচ্ছা পূরণ না হলেও ক্রোধ উৎপন্ন হয়।
যেমন, একটি ভালো মডেলের গাড়ি দেখে মনে ইচ্ছা উৎপন্ন হয় যে এইরকম গাড়ি আমারও থাকা উচিত। অনেক চেষ্টা করেও যদি গাড়ি না কেনা যায়, তখন মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর যদি অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে একটা দামি নতুন গাড়ি কেনাও হয়, সেই গাড়িতে একটু আঁচড় লাগলেও ক্রোধ উৎপন্ন হয়, তা যদি বন্ধুর কারণে হয়,তাহলেও ক্রোধ প্রশমিত হয় না। এভাবে ইচ্ছা পূর্ণ হলে এবং ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেলেও, উভয় পরিস্থিতিতেই ক্রোধ উৎপন্ন হয়। মানুষ ক্রোধের বশে সম্মোহিত হয়ে যায়। সম্মোহনের পর মানুষ যেভাবে আচরণ করে, একজন মানুষ ক্রোধিত হলে সেরকমই আচরণ করে। যেমন তার হাতের কাছে কোনো জিনিস থাকলে, সেটা ছুড়ে ফেলে দেয়। তার স্মৃতি ভ্রম হয়। সে বুঝতে পারে না যে সে কী ধরনের অনুচিত আচরণ করছে । সে নিজেকে ভুলে যায় এবং এভাবে তার বুদ্ধি নষ্ট হয় এবং বুদ্ধির বিনাশের সাথে সাথে তার অধঃপতন হয়। এসবই বিষয়ের চিন্তনের কারণে ঘটে।
সমাজে, সংসারে যত বিতর্ক ও বিবাদ হয়, সেটাও বিষয়ের চিন্তনের কারণেই ঘটে। তাই যখনই মন ক্রোধিত হয়ে ওঠে, একটু থেমে চিন্তা করে দেখা উচিত যে আমার এই ক্রোধ -ভাব কি কোনো ইচ্ছার কারণে উৎপন্ন হয়েছে।
রাগদ্বেষাবয়ুক্তৈস্তু , বিষয়ানিন্দ্রিয়ৈশ্চরন্
আত্মবশ্য়ৈর্বিধেয়াত্মা,প্রসাদমধিগচ্ছতি॥64॥
প্রসাদে সর্বদুঃখানাং(ম্ ),হানিরস্য়োপজায়তে
প্রসন্নচেতসো হ্য়াশু, বুদ্ধিঃ(ফ্)পর্য়বতিষ্ঠতে॥65॥
বিবেচন: প্রসাদ অর্থাৎ হৃদয় থেকে প্রাপ্ত হওয়া প্রসন্নতা। যে এই প্রসাদ প্রাপ্ত করে, তার সমস্ত দুঃখ নাশ হয়। দুঃখ বা সুখের প্রতি তার কোনো আসক্তি বা ঘৃণা নেই। সে প্রসন্নচিত্ত হয়ে যায়, , একাগ্রচিত্ত হয়, যার ফলে তার বুদ্ধি স্থির হয়ে যায়। জ্ঞানেশ্বর মহারাজ প্রসন্নতার সুন্দর বর্ণনা করেছেন :
अमृताचा निर्झर प्रसवते ज्याचे जठर क्षुधा तृष्णेची पीडा फार त्यास नाही कदापि।
যার পেটে অমৃতধারা প্রবাহিত হচ্ছে , সে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় পীড়িত হয় না। একইভাবে, যিনি পরমাত্মার আশীর্বাদরূপী প্রসাদ প্রাপ্ত করেছেন, যার অন্তঃকরণ পরমাত্মার সাথে একরূপ হয়ে গেছে, যিনি আনন্দমগ্ন হয়ে গেছেন, তাকে বিষয় কোনো কষ্ট দিতে পারে না।
हृदय ज्याचे प्रसन्न त्यासी दुःख होईल कोठून,
बुद्धी परमात्मरूपी जडुन सहज त्याची राहते ।
অর্থাৎ যার হৃদয় প্রসন্নতায় পূর্ণ হয়ে আছে, তিনি কিভাবে দু: খিত হতে পারেন ? যিনি পরমাত্মার সাথে যুক্ত তার বুদ্ধি স্থির হয়ে যায়। তিনি প্রতিনিয়ত পরমাত্মার সাথে একাত্ম থাকেন।
নাস্তি বুদ্ধিরয়ুক্তস্য়, ন চায়ুক্তস্য় ভাবনা
ন চাভাবয়তঃ(শ্) শান্তি:(র্), অশান্তস্য় কুতঃ(স্) সুখম্॥66॥
न चाभावयतःशांतिः, अशांतस्य कुत सुखं।
যার মনে পরমাত্মার প্রতি প্রেমভাব নেই, সে কিভাবে শান্তি পাবে?
ইন্দ্রিয়াণাং(ম্) হি চরতাং(য়্ঁ), য়ন্মনোऽনুবিধীয়তে।
তদস্য় হরতি প্রজ্ঞাং(ম্), বায়ুর্নাবমিবাম্ভসি॥2.67॥
তস্মাদ্য়স্য় মহাবাহো, নিগৃহীতানি সর্বশঃ
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্য়:(স্), তস্য় প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥68॥
য়া নিশা সর্বভূতানাং(ন্),তস্য়াং( ঞ্)জাগর্তি সংয়মী
য়স্য়াং(ঞ্) জাগ্রতি ভূতানি, সা নিশা পশ্য়তো মুনেঃ॥69॥
আপূর্য়মাণমচলপ্রতিষ্ঠং(ম্),
সমুদ্রমাপঃ(ফ্) প্রবিশন্তি য়দ্বত্
তদ্বত্কামা য়ং(ম্) প্রবিশন্তি সর্বে,
স শান্তিমাপ্নোতি ন কামকামী॥70॥
জ্ঞানেশ্বর মহারাজ বলেন- নদীতে বন্যা এলেও সমুদ্রের ওপর তার কোনো প্রভাব হয় না এবং নদী শুকিয়ে গেলেও সমুদ্রের জল শুকিয়ে যায় না।
মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন যখন নোবেল পুরস্কার পান, তার কিছুদিন পর সোসাইটি থেকে ওনার কাছে ফোন এলো যে তিনি উপহার হিসাবে প্রাপ্ত চেকটি জমা করেননি। আইনস্টাইন সেই চেকটি কোনো একটি বইয়ের মধ্যে রেখে সে চেকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি, তিনি বিভ্রান্ত হননি, তিনি তার কাজ, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেই নিবিষ্ট ছিলেন। এইপ্রকার জ্ঞানী ব্যক্তিরা কখনোই অস্থির বা বিচলিত হন না।
বিহায় কামান্য়ঃ(স্) সর্বান্ , পুমাংশ্চরতি নিঃস্পৃহঃ
নির্মমো নিরহঙ্কারঃ(স্), স শান্তিমধিগচ্ছতি॥71॥
अयं निज: परोवेत्ति गणना लघु चेतसाम्।
उदारचरितानां तु वसुधैव कुटुंबकम्।।
এটি আমার, ওটা তোমার, এই প্রকার মনের ভাব হলো ক্ষুদ্র মনের পরিচয়। কিন্তু উদার মনের মানুষের কাছে পুরো পৃথিবীটাই একটি পরিবার। জ্ঞানেশ্বর মহারাজ বলেন- '
'हे विश्वची माझे घर ऐसी मती जयाची स्थिर।
আপন -পর, এই ভাব যেন কারুর না থাকে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তির এইপ্রকার নির্মোহ ভাব থাকে, সমগ্র জগৎই তাহার গৃহের ন্যায়। একজন সাধারণ মানুষের 'আমি' ভাবের অহংকার থাকে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তির সেই অহংকার সমাপ্ত হয়ে যায়। একমাত্র তিনিই শান্তি প্রাপ্ত করতে পারেন।
এষা ব্রাহ্মী স্থিতিঃ(ফ্)পার্থ, নৈনাং(ম্) প্রাপ্য় বিমুহ্য়তি
স্থিত্বাস্য়ামন্তকালেऽপি, ব্রহ্মনির্বাণমৃচ্ছতি॥72॥
যে পরমাত্মার সাথে একরূপ হয়ে গেছে তার পুনরায় পতন হয় না। তার প্রজ্ঞা স্থির হয়ে গেছে। জীবনের অন্তিম সময়েও সে বিচলিত হয় না। এই স্থিতি যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রাপ্ত করা যেতে পারে।
গলবানে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও আমাদের যোদ্ধা সৈন্যরা বিচলিত হননি। আমাদের মনে রাখা উচিত যে এটি একজন জ্ঞানী মানুষ প্রাপ্ত করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষও তার কর্ম সম্পাদন করতে গিয়ে এই অবস্থা প্রাপ্ত করতে পারে। ভগবান লাভের আনন্দ, পরব্রহ্ম প্রাপ্তির আনন্দ শেষ মুহুর্তেও তার সাথে থাকে।
এভাবে এই বিবেচন সত্রের আনন্দ সকলেই প্রাপ্ত করলেন।
এর পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রশ্নকর্তা- বজরং জী
প্রশ্ন- একজন মানুষ ভালো হতে চায়, কিন্তু তার মন বারংবার তাকে বিপথে নিয়ে যায়। এটি যাতে না ঘটে তার জন্য কী করা উচিত?
উত্তর: অর্জুনও একই প্রশ্ন করেছিলেন যে তার মন চঞ্চল হয়ে ওঠে, তখন ভগবান অর্জুনকে চতুর্দশ অধ্যায়ে যে সত্ত্ব, রজ, তম গুণের কথা বলেছেন, তার মধ্যে কোন গুণটি মানুষের প্রকৃতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে, তা দেখা উচিত। কামনা-বাসনা থেকে মুক্তি পাওয়াই হলো এর একমাত্র সমাধান। ভগবান এখানে আত্মসংযম যোগের কথা বলেছেন।
প্রশ্নকর্তা- সুষমা জী
প্রশ্ন- মৃত্যুর পর মানুষ অন্য দেহ ধারণ করে, তাহলে তার শ্রাদ্ধ করা হয় কেন? যদি পুত্ররা তা না করে তবে এর দোষ কি পুত্রদের হয়?
উত্তর: পিতৃপুরুষদের সদ্গতি করার দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের, যা পিতৃর নতুন দেহ ধারণ করা পর্যন্ত্য থাকে। তাই তাদের শান্তির জন্য এইটা এক প্রকারের প্রার্থনা। ভগবদ্গীতা শিক্ষা দেয় যে আমাদের কর্তব্য পালন করে যেতে হবে, কর্তব্য থেকে পলায়ন করা উচিত নয়। যা আমার কর্তব্য, তা করেই যেতে হবে। পুনর্জন্ম প্রাপ্ত হয়েছে কি না, এ আমাদের অজানা, তাই আমাদের কর্তব্যচ্যুত হওয়া উচিত নয়।
প্রশ্নকর্তা- বিজয় জী
প্রশ্ন- গীতার এই উপদেশ প্রদান সময় কি যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: এর মধ্যে একটি বিরতি আছে যুদ্ধের প্রাক্কালে যখন ভগবান রথকে দুই সৈন্যের মধ্যে দাঁড় করিয়ে ছিলেন, তখন শুধু শঙ্খনাদ করা হয়েছিল, যুদ্ধ তখনও আরম্ভ হয়নি। তখন সেখানে ভগবানের উপদেশ অর্জুনের সাথে সাথে সঞ্জয় এবং মহর্ষি বেদব্যাস শুনেছিলেন এবং মহর্ষি বেদব্যাস এটি কাব্যের আকারে সংকলিত করেছিলেন। যুদ্ধ প্রাতঃকালে আরম্ভ হয়ে সন্ধ্যাকালে সমাপ্ত হয়ে যেত। উপদেশ প্রদানের সময় যুদ্ধ শুরু হয়নি, শুধু শঙ্খনাদ করা হয়েছিল।