विवेचन सारांश
ভক্তের লক্ষণ
নিয়মানুযায়ী কৃষ্ণ বন্দনা, দীপ প্রজ্জলন, দেবদেবীর প্রার্থনা দিয়ে শুভসূচনা হলো বিবেচন সত্রের।
শ্রদ্ধেয়া বক্তা গুরু বন্দনা করে তার বক্তব্য আরম্ভ করলেন। তিনি গীতা অধ্যয়নরত দের উদ্দেশ্যে বললেন আমরা ১২ তম অধ্যায় থেকে পঠন শুরু করে থাকি এই কারণে যে এই অধ্যায়টি আকারে ছোট ,মাত্র ২০টি শ্লোক নিয়ে গঠিত তাই সহজেই শেষ হয় বোলে পড়ুয়াদের মনে আত্মবিশ্বাস জন্মায় যে তারা ১৮টি অধ্যায় পারবে শেষ করে উঠতে নয়তো তাদের ধৈর্য্য চ্যুতি র আশঙ্কা থাকে। বক্তা বলছেন কোনো কিছু সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে সেই বিষয়ের সকল অংশ গুলো জানা দরকার,তাই এখানে জানতে হবে অর্জুন ,গীতা ও ভগবান কৃষ্ণ সম্বন্ধে। অর্জুনের কথা শুনলে মনে হয় তিনি একজন যুবক মাত্র কিন্তু যখন গীতা বলা হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ৮৪ বছর। অর্জুন জীবনে কোনদিন কারুর কাছে হার মানেন নি, প্রত্যেকটি যুদ্ধে তিনি জয়ী হয়েছেন তিনি ছিলেন নিদ্রা জয়ী অর্থাৎ নিদ্রা বিনা তিনি দিনের পর দিন থাকতে পারতেন ।তার সাধনা ছিল গভীর। তিনি শিবের সাথে মল্ল যুদ্ধ করে তাকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। তার চরিত্রে বহু গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাইতো কৃষ্ণ তার অতি প্রিয় শিষ্য হিসেবে ,সখা হিসেবে তাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং এই যে গীতা এটি সমস্ত উপনিষদের সারাৎসার ,মহাভারতে ব্যাসদেব এটিকে গ্রথিত করেছেন ভীষ্ম পর্বে ,অর্জুনকেই এই গীতার জ্ঞান দেবার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন। কৃষ্ণ ভগবান ১৫তম অধ্যায় বলেছেন অর্জুন ২৬ টি দৈবীগুনের অধিকারী তাই তার কাছে তিনি জ্ঞানের ভান্ডার উজার করে দিয়েছেন যা আমাদেরও সংসারে প্রতিটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়। জগতে এই গীতা গ্রন্থের ১৮০০ ভাষ্য আছে, বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন শাস্ত্র পাঠ না করে কেউ যদি গীতা শুধু অধ্যয়ন করে তাহলে তার অন্য শাস্ত্র পাঠেরপ্রয়োজন হয় না। অর্জুনকে নিমিত্ত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতার মধ্যে দিয়ে আমাদের সবার জন্য জ্ঞান বিতরণ করেছেন। জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান এই গীতাগ্রন্থের মধ্যে নিহিত আছে। তাই এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত সাতশো শ্লোক যুগে যুগে এত মূল্যবান বলে গৃহীত হয়ে
এসেছে। অর্জুন ও গীতা সম্বন্ধে সারগর্ভ কথাগুলি বলার পর এইবার বক্তা কৃষ্ণ সম্বন্ধে বলছেন। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন অর্জুনের রথের সারথি। যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরু হয় তখন অর্জুন যুদ্ধ প্রাঙ্গনে কৃষ্ণকে বলেন তার রথটি উভয়পক্ষীয় সৈন্য অর্থাৎপাণ্ডব এবং কৌরব দের মাঝখানে স্থাপন করতে কারণ তিনি দেখতে চেয়েছিলেন তিনি কাদের সাথে যুদ্ধ করতে চলেছেন শ্রীকৃষ্ণ রথটি কিন্তু দুর্যোধন বা দুঃশাসনের সামনে দেখা যায় স্থাপন করেননি। তার একটি কারণ হলো অর্জুন তাদেরকে দেখে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়বেন এবং সেটাই স্বাভাবিক তাই তিনি রথটিকে ভীষ্ম পিতামহ ও দ্রোণাচার্যের সম্মুখে রাখলেন ।অর্জুন ছিলেন তাদের অত্যন্ত স্নেহধন্য। তাদের দেখে অর্জুন অস্ত্র পরিত্যাগ করে বিমর্ষ হয়ে পড়লেন এবং গীতা জ্ঞান উপস্থাপনের জন্য স্বয়ং ভগবান আবহটি তৈরি করলেন। এটি ছিল শ্রীকৃষ্ণের পরিকল্পনা। এই অবস্থায় অর্জুন উত্তেজিত ছিলেন না তিনি শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে তার উচ্চারিত উপদেশাবলী গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হলেন আর আমরাও গীতার জ্ঞান ভাণ্ডারের সন্ধান পেলাম।
শ্রদ্ধেয়া বক্তা গুরু বন্দনা করে তার বক্তব্য আরম্ভ করলেন। তিনি গীতা অধ্যয়নরত দের উদ্দেশ্যে বললেন আমরা ১২ তম অধ্যায় থেকে পঠন শুরু করে থাকি এই কারণে যে এই অধ্যায়টি আকারে ছোট ,মাত্র ২০টি শ্লোক নিয়ে গঠিত তাই সহজেই শেষ হয় বোলে পড়ুয়াদের মনে আত্মবিশ্বাস জন্মায় যে তারা ১৮টি অধ্যায় পারবে শেষ করে উঠতে নয়তো তাদের ধৈর্য্য চ্যুতি র আশঙ্কা থাকে। বক্তা বলছেন কোনো কিছু সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে সেই বিষয়ের সকল অংশ গুলো জানা দরকার,তাই এখানে জানতে হবে অর্জুন ,গীতা ও ভগবান কৃষ্ণ সম্বন্ধে। অর্জুনের কথা শুনলে মনে হয় তিনি একজন যুবক মাত্র কিন্তু যখন গীতা বলা হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ৮৪ বছর। অর্জুন জীবনে কোনদিন কারুর কাছে হার মানেন নি, প্রত্যেকটি যুদ্ধে তিনি জয়ী হয়েছেন তিনি ছিলেন নিদ্রা জয়ী অর্থাৎ নিদ্রা বিনা তিনি দিনের পর দিন থাকতে পারতেন ।তার সাধনা ছিল গভীর। তিনি শিবের সাথে মল্ল যুদ্ধ করে তাকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। তার চরিত্রে বহু গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাইতো কৃষ্ণ তার অতি প্রিয় শিষ্য হিসেবে ,সখা হিসেবে তাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং এই যে গীতা এটি সমস্ত উপনিষদের সারাৎসার ,মহাভারতে ব্যাসদেব এটিকে গ্রথিত করেছেন ভীষ্ম পর্বে ,অর্জুনকেই এই গীতার জ্ঞান দেবার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন। কৃষ্ণ ভগবান ১৫তম অধ্যায় বলেছেন অর্জুন ২৬ টি দৈবীগুনের অধিকারী তাই তার কাছে তিনি জ্ঞানের ভান্ডার উজার করে দিয়েছেন যা আমাদেরও সংসারে প্রতিটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়। জগতে এই গীতা গ্রন্থের ১৮০০ ভাষ্য আছে, বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন শাস্ত্র পাঠ না করে কেউ যদি গীতা শুধু অধ্যয়ন করে তাহলে তার অন্য শাস্ত্র পাঠেরপ্রয়োজন হয় না। অর্জুনকে নিমিত্ত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতার মধ্যে দিয়ে আমাদের সবার জন্য জ্ঞান বিতরণ করেছেন। জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান এই গীতাগ্রন্থের মধ্যে নিহিত আছে। তাই এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত সাতশো শ্লোক যুগে যুগে এত মূল্যবান বলে গৃহীত হয়ে
এসেছে। অর্জুন ও গীতা সম্বন্ধে সারগর্ভ কথাগুলি বলার পর এইবার বক্তা কৃষ্ণ সম্বন্ধে বলছেন। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন অর্জুনের রথের সারথি। যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরু হয় তখন অর্জুন যুদ্ধ প্রাঙ্গনে কৃষ্ণকে বলেন তার রথটি উভয়পক্ষীয় সৈন্য অর্থাৎপাণ্ডব এবং কৌরব দের মাঝখানে স্থাপন করতে কারণ তিনি দেখতে চেয়েছিলেন তিনি কাদের সাথে যুদ্ধ করতে চলেছেন শ্রীকৃষ্ণ রথটি কিন্তু দুর্যোধন বা দুঃশাসনের সামনে দেখা যায় স্থাপন করেননি। তার একটি কারণ হলো অর্জুন তাদেরকে দেখে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়বেন এবং সেটাই স্বাভাবিক তাই তিনি রথটিকে ভীষ্ম পিতামহ ও দ্রোণাচার্যের সম্মুখে রাখলেন ।অর্জুন ছিলেন তাদের অত্যন্ত স্নেহধন্য। তাদের দেখে অর্জুন অস্ত্র পরিত্যাগ করে বিমর্ষ হয়ে পড়লেন এবং গীতা জ্ঞান উপস্থাপনের জন্য স্বয়ং ভগবান আবহটি তৈরি করলেন। এটি ছিল শ্রীকৃষ্ণের পরিকল্পনা। এই অবস্থায় অর্জুন উত্তেজিত ছিলেন না তিনি শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে তার উচ্চারিত উপদেশাবলী গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হলেন আর আমরাও গীতার জ্ঞান ভাণ্ডারের সন্ধান পেলাম।
12.1
এবং(ম্) সততয়ুক্তা য়ে, ভক্তাস্ত্বাং(ম্) পর্য়ুপাসতে য়ে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং(ন্), তেষাং(ঙ্) কে য়োগবিত্তমাঃ।।1।।
যে সকল ভক্ত নিবিষ্ট চিত্তে নিরন্তর আপনার (সগুণ ভগবানের) উপাসনা করেন, এবং যাঁরা অবিনাশী নিরাকারের উপাসনা করেন, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যোগী কে?
বক্তা এবার ১২অধ্যায়ের ১ম শ্লোক টির ব্যাখ্যা করছেন। এই শ্লোকটিতে অর্জুন ভগবানকে প্রশ্ন করছেন ,যে অনন্যশরণ ভক্ত সর্বদা ভগবতকর্ম ইত্যাদিতে নিযুক্ত থেকে সমাহিত চিত্তে কৃষ্ণ ভগবানের উপাসনা করেন আর যে সকল ভক্ত ভগবানের ইন্দ্রিয়াতীত অক্ষর ব্রহ্মের উপাসনা করেন, অন্তরের সমস্ত বাসনা ও কর্ম পরিত্যাগ করে, এই দুই প্রকার ভক্তের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ যোগী। এখানে ভগবানের নিরাকার এবং সাকার রূপের কথা বলা হচ্ছে।এই প্রসঙ্গে বলা যায় ঈশ্বর সাধনার দুটি পথ আছে একটি জ্ঞান যোগের পথ অপরটি ভক্তিযোগের পথ। ভগবানের নিরাকার সত্ত্বার সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ গীতার অষ্টম অধ্যায়ে (অক্ষর ব্রহ্মযোগ ) দেওয়া হয়েছে। বক্তা বলছেন ভগবান এক ও অদ্বিতীয় শুধু তাকে উপলব্ধির পথ দুটি ভিন্ন মাত্র।
শ্রী ভগবানুবাচ
ময়্যাবেশ্য মনো য়ে মাং(ন্), নিত্যয়ুক্তা উপাসতে
শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাঃ(স্), তে মে য়ুক্ততমা মতাঃ।।2।।
শ্রীভগবান বললেন—আমাতে মন নিবিষ্ট করে নিত্য-নিরন্তর আমাতে যুক্ত হয়ে যেসব ভক্ত পরম শ্রদ্ধা সহকারে আমার (সগুণ-সাকারের) উপাসনা করেন আমার মতে তাঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী ।
অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে ভগবান বলছেন পরমেশ্বরের ভজন দ্বারা জীবের উদ্ধার হয় এই বিশ্বাস দৃঢ় করে যারা ভগবানের বিশ্বরূপে মনোনিবেশ করে এবং সর্বদা তার স্মরণ মনন পূজন করে থাকে তারাই ভগবানের শ্রেষ্ঠ যোগী। সগুণ সাকার ভগবানের রূপকে কল্পনা করা যেহেতু সহজ তাই ভক্তির পথ অনেকের পক্ষেই অনুসরণ যোগ্য তাই ভগবান বলছেন যারা ভক্তির পথ ধরে চলেন বা এই পথে ভগবান কে লাভ করতে অগ্রসর হন তাঁরা যোগী শ্রেষ্ঠ।
য়ে ত্বক্ষরমনির্দেশ্যম্, অব্যক্তং(ম্) পর্য়ুপাসতে
সর্বত্রগমচিন্ত্যং(ঞ্) চ, কূটস্থমচলং(ন্) ধ্রুবম্।।3।।
যাঁরা সম্পূর্ণরূপে নিজ ইন্দ্রিয় বশীভূত করে অচিন্ত্য, সর্বত্র পূর্ণভাবে অবস্থিত, অনির্দেশ্য, কূটস্থ, অচল, ধ্রুব,।
ভগবান বলছেন যারা বা যে সকল ভক্ত শব্দ ইত্যাদি দ্বারা প্রমাণিত নয়, প্রত্যক্ষ প্রমাণের দ্বারা অগোচর সর্বব্যাপী মনের অতীত শাশ্বত নির্গুণ ব্রহ্মের উপাসনা করেন তারাও কিন্তু পরম পদপ্রাপ্তির যোগ্য হন ,তারাও ভগবানের শ্রীপদ লাভ করতে সমর্থ হন। এখানে কুটস্থ শব্দের অর্থ যে নির্গুণ ব্রহ্ম মায়া দ্বারা সকল জগতকেআবৃত করে নিজেই সেখানে অধিষ্ঠিত, তাকে বোঝানো হয়েছে। কূট শব্দের অর্থ মায়া। ভগবৎপদপ্রাপ্তির জন্য দুটি ভিন্ন পথ বলা হলেও দুটি পথকেই ভগবান সঠিক বলছেন।
সন্নিয়ম্যেন্দ্রিয়গ্রামং(ম্), সর্বত্র সমবুদ্ধয়ঃ
তে প্রাপ্নুবন্তি মামেব, সর্বভূতহিতে রতাঃ।।4।।
অক্ষর এবং অব্যক্তের একাগ্রের সঙ্গে উপাসনা করেন, সেই প্রাণীমাত্রেরই হিতপরায়ণ এবং সর্বত্র সমবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ আমাকেই প্রাপ্ত হন।
চতুর্থ শ্লোকে ভগবান ভক্তের অন্যগুণ গুলির বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। আমাদের যে ১০ ইন্দ্রিয় আছে সেগুলি সম্যক ভাবে সংযত করতে হবে। একই সাথে প্রত্যেকের প্রতি সম বুদ্ধি রাখতে হবে এটির অর্থ সকলের প্রতি ব্যবহারে যেন সমতা থাকে। সকলের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান বোধ রাখতে হবে। আরো বলছেন সকলের কল্যাণ কামনা শুধু নয়, সকলের কল্যাণ করতে ব্রতী হলেই সম্ভব হবে ভক্তের পক্ষে ভগবান লাভ।
ক্লেশোধিকতরস্তেষাম্, অব্যক্তাসক্তচেতসাম্
অব্যক্তা হি গতির্দুঃখং(ন্), দেহবদ্ভিরবাপ্যতে।।5।।
অব্যক্তে (নির্গুণ ব্রহ্মে) আসক্তচিত্ত সেই সাধকদের (নিজ নিজ সাধনে) অধিক ক্লেশ হয়ে থাকে, কারণ দেহধারী ব্যক্তিদের অব্যক্তের প্রাপ্তি কষ্টে লাভ হয়।
যাদের মন নির্গুণ নিরাকার ব্রহ্মে অভিনিবিষ্ট তাদের সিদ্ধিলাভের জন্য সগুণ ও সাকার উপাসক অপেক্ষা বেশি ক্লেশ করতে হয়। কারণ নিরাকার ব্রহ্মে নিষ্ঠালাভ করা দেহাভিমানী ব্যক্তিদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। "আমার বুদ্ধি আছে," এমন বোধ যার সেই দেহাভিমানী। ভগবান অর্জুনের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলি বলে আমাদের কেউ সচেতন করছেন। এখানেই গীতা অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা।
য়ে তু সর্বাণি কর্মাণি, ময়ি সন্ন্যস্য মত্পরাঃ
অনন্যেনৈব য়োগেন, মাং(ন্) ধ্যায়ন্ত উপাসতে।।6।।
কিন্তু যাঁরা সমস্ত কর্ম আমাতে অর্পণ করে, মৎ-পরায়ণ হয়ে অনন্যভাবে আমারই ধ্যান বা উপাসনা করেন।
ভগবান এই শ্লোকে ব্রহ্মপদ লাভের আরেকটি পথের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলছেন যারা সমস্ত কর্ম ভগবানের পদে সমর্পণ করেন, শ্রীকৃষ্ণ ভগবানই একমাত্র যাদের উপাস্য আর যিনি সর্বদা তার সাথে যুক্ত থেকে তার উপাসনা ও ধ্যান করেন তিনি শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের যথার্থ ভক্ত। এরকম ভক্তির পথ অনুসরণ করেও ভগবান লাভ সম্ভব।
তেষামহং(ম্) সমুদ্ধর্তা, মৃত্যুসংসারসাগরাত্
ভবামি নচিরাত্পার্থ, ময়্যাবেশিতচেতসাম্।।7।।
হে পার্থ ! আমাতে সমর্পিত চিত্ত সেই ভক্তদের আমি মৃত্যুরূপ সংসার-সমুদ্র থেকে শীঘ্রই উদ্ধার করে থাকি।
এই ভক্তির পথে যারা চলেছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাদেরকে জন্ম -মৃত্যু রূপ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। এটি সকল ভক্তের জন্য একটি আশ্বাস বাণী স্বরূপ।
ময়্যেব মন আধত্স্ব, ময়ি বুদ্ধিং(ন্) নিবেশয়
নিবসিষ্যসি ময়্যেব, অত ঊর্ধ্বং(ন্) ন সংশয়ঃ।।8।।
তুমি আমাতে মন নিবিষ্ট কর এবং আমাতেই বুদ্ধি নিয়োগ কর ; তাহলে তুমি আমাতেই বাস করবে (স্থিতিলাভ করবে) এতে কোনো সন্দেহ নেই ।
কৃষ্ণ ভগবান ভক্তের জন্য নির্দিষ্ট তিনটি পথের সন্ধানে দিয়েছেন আগের শ্লোক গুলিতে। এই শ্লোকে অর্জুনকে, যেহেতু অর্জুন তার প্রিয়তম শিষ্য, তাকে বলছেন তিনি যেন শ্রীকৃষ্ণকে তার উপাস্য বলে মনে করেন এবং তার মন বুদ্ধি সকলি তাকেই সমর্পণ করেন। এই রূপ করলে দেহান্তে অর্জুন নিশ্চয়ই ভগবানের স্বরূপে স্থিতি লাভ করবেন আর এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই কথা ভগবান নিজে মুখে গীতা তে অর্থাৎ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে বিশেষ জ্ঞান রূপে অর্জুনকে দিলেন। অর্জুন এই বিশ্বাস নিয়েই তার মনের সমস্ত সন্দেহ দূরীভূত করে শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিজেকে যেন বিলিয়ে দিলেন।
বিবেচনা সত্র বক্তা এখানে শেষ করলেন। সুমধুর হরিনাম সবাই তৃপ্ত হলাম।
বিবেচনা সত্র বক্তা এখানে শেষ করলেন। সুমধুর হরিনাম সবাই তৃপ্ত হলাম।